Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫৩, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

১৪ বোয়িং কিনছে সরকার, আজ চুক্তি 

১৪ বোয়িং কিনছে সরকার, আজ চুক্তি 
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস-এর বহর সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর সঙ্গে বড় একটি চুক্তি সই হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বিমানের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ উদ্যোগ, যা দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন মোড় আনতে পারে।

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চুক্তি সই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের পক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি চুক্তিতে সই করবেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

চুক্তির আওতায় বিমান মোট ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। এসব উড়োজাহাজের মোট তালিকামূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার সমান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমানের বহর আরও আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক রুটেও সেবার পরিধি সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।

বিশেষ করে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো স্বল্প ও মধ্যপাল্লার রুটে পরিচালিত হবে, যা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গন্তব্যগুলোতে বিমানের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রাক্কালে এ চুক্তিকে দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার চায়, ভবিষ্যতে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ট্রানজিট হাবে পরিণত হোক। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই বহর সম্প্রসারণকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে এ চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা বোয়িং ও এয়ারবাস-এর প্রতিযোগিতারও অবসান ঘটছে। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে বিমান নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে দুই নির্মাতার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিল।

বিশেষ করে ২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্টইমানুয়েল ম্যাঁখোর বাংলাদেশ সফরের পর এয়ারবাস বহরে অন্তর্ভুক্তির আলোচনা জোরদার হয়। ইউরোপীয় পক্ষ থেকে বিমানের বহরে বৈচিত্র্য আনতে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছিলো তবে শেষ পর্যন্ত বড় অর্ডারটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বোয়িং।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এ উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে শুধু যাত্রীসেবার মানই বাড়বে না, বরং আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতায় বিমানের অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দেশের পর্যটন, বাণিজ্য এবং বৈদেশিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

হালান্ড ঝড়ে বিধ্বস্ত ব্রাজিলের বিদায়
ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে সপ্তমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়ার
এক মোটরসাইকেলে তিন বন্ধু, শেষ হলো একসঙ্গেই
কোরআনের আয়াত শুনিয়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ করলো ইরান
ইরানের জন্য প্রস্তুত রাশিয়ার ২০টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমান
অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকির অভিযোগ
সমৃদ্ধ পল্লীই গড়ে তুলবে উন্নত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
শাওন-মাহি-সোমাদের খুঁটির জোর কোথায়?
মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের ৩৩ শীর্ষ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক অবসর
যুবলীগ নেতার মুক্তি দাবিতে থানা ঘেরাও, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ
নিউইয়র্কে গোলাগুলি, ৪ শিশুসহ আহত অন্তত ৮
বেনাপোল কাস্টমসে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি
বেড়াতে নিয়ে মামাতো বোনকে ধর্ষণ, ফুফাতো ভাই গ্রেফতার