হরমুজে উত্তেজনা ও নতুন নিষেধাজ্ঞায় জটিল সমীকরণ
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে হামলা, জাহাজ জব্দ এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দেয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাব জমা দেয়া এবং আলোচনা চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তানের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অ্যান্টোনিও গুতেরেস এবং শেহবাজ শরিফ। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হতে পারে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো আসলে সম্ভাব্য আকস্মিক হামলার প্রস্তুতির অংশ। তার মতে, নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা কার্যত সামরিক চাপ বজায় রাখার কৌশল।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সতর্কতা অমান্য করে চলাচলের চেষ্টা করায় তিনটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে এবং এর মধ্যে দুটি—এমএসসি ফ্রান্সেসকা ও এপামিনোন্ডাস—জব্দ করে ইরানের জলসীমায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইরান নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থে এটি খুলতে আগ্রহী। তিনি বলেন, এ সমুদ্রপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে ইরান, তাই তারা অবরোধ দীর্ঘায়িত করতে চায় না।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সামরিক প্রস্তুতি থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এ সময়কে কাজে লাগিয়ে সেনারা নিজেদের পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত ও কৌশলগতভাবে প্রস্তুত করছে। কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, মার্কিন বাহিনী দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম এবং সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এর মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তার অভিযোগে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এ সিদ্ধান্ত।
সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও বাস্তবতায় উত্তেজনা কমার বদলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক আলোচনা এগোলেও মাঠের পরিস্থিতি যে এখনও অস্থির—সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠছে হরমুজ প্রণালীর সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে।
সবার দেশ/কেএম




























