নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় গুরুত্ব
তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন ডাচেস সোফি
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিন দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য ডাচেস অব এডিনবরা সোফি। আগামী ৯ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত তার এ সফরে নারী ও মেয়েদের অধিকার, নিরাপত্তা, ক্ষমতায়ন এবং শরণার্থীদের মানবিক সহায়তার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
বাকিংহাম প্যালেসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, সফরকালে ডাচেস সোফি রাজধানী ঢাকা ও কক্সবাজারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সংকট সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেবেন তিনি।
ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কনিষ্ঠ ভাই প্রিন্স এডওয়ার্ড, ডিউক অব এডিনবরার স্ত্রী সোফি ব্রিটিশ রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারী ও মেয়েদের অধিকার, যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ এবং মানবিক সহায়তামূলক বিভিন্ন উদ্যোগে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
সফরের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর ডাচেস সোফিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অভ্যর্থনা জানানো হবে। এ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিপসট) পরিদর্শন করবেন। সেখানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা সম্পর্কে জানবেন। বিশেষ করে শান্তিরক্ষা মিশনে নারীদের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। এ ক্ষেত্রে নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও সফরের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকা সফরের অংশ হিসেবে ডাচেস সোফি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) পরিদর্শন করবেন। সেখানে নারী হকি খেলোয়াড়সহ উদীয়মান তরুণ ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন তিনি। খেলাধুলার মাধ্যমে নারী ও মেয়েদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের বিষয়টি এ আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য।
বিশেষ করে বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদদের সাফল্য, প্রতিকূলতা মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
এ ছাড়া বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ডাচেস। সেখানে শিক্ষা, সংস্কৃতি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে নারী ক্ষমতায়ন এবং মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেবেন তিনি।
ঢাকায় কর্মসূচি শেষে ডাচেস সোফি যাবেন কক্সবাজারে। সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা এবং তাদের জন্য পরিচালিত সুরক্ষা ও সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন তিনি।
রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থানকালে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, মানসিক সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। পাশাপাশি শরণার্থী নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সংকট মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা বাড়াতে পরিচালিত উদ্যোগগুলোও পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে আসছে। বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি তাঁদের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ডাচেস সোফির কক্সবাজার সফর রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের মানবিক সংকট এবং তাঁদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
কূটনৈতিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ডাচেস সোফির এ সফর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও দৃশ্যমান হবে, অন্যদিকে নারী ক্ষমতায়ন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।
তিন দিনের এ সফরে শিক্ষা, ক্রীড়া, শান্তিরক্ষা ও মানবিক সহায়তার বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের বহুমাত্রিক দিকগুলো নতুন করে সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/এমকেজে




























