Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:০৫, ৮ নভেম্বর ২০২৬

৭ নভেম্বরকে বিপ্লব, ২৪-কে নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ

৭ নভেম্বরকে বিপ্লব, ২৪-কে নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বিএনপি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব হিসেবে উদ্‌যাপন করলেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে চায় না। রাজনৈতিক সুবিধা বিবেচনায় দলটি ইতিহাসের ঘটনাগুলোকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে। নিজেদের স্বার্থ জড়িত থাকলে কোনও ঘটনাকে বিপ্লব হিসেবে আখ্যা দিলেও জনগণের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে বিএনপি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান: বর্তমানের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সৈনিকদের অংশগ্রহণ ও সাধারণ মানুষের সমর্থনে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা হয়েছিলো। দলটি এ ঘটনাকে বিপ্লব হিসেবে বিবেচনা করে। এতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সৈনিকদের অংশগ্রহণ ছিলো। এত ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও অর্জন থাকা সত্ত্বেও বিএনপি এ ঘটনাকে কখনো গণ-অভ্যুত্থান, এমনকি বিপ্লব হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে চায় না।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ‘বাকশাল টু’ থেকে মুক্তি পেয়েছে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং বাক্‌স্বাধীনতার পরিসর উন্মুক্ত হয়েছে। এগুলো গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু বিএনপি সে অর্জনগুলো যথাযথভাবে স্বীকার করতে অনীহা দেখাচ্ছে।

বিএনপির ইতিহাসচর্চার সমালোচনা করে এনসিপির এ নেতা বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিয়াউর রহমানকে ঘিরে বিএনপি একক মালিকানার দাবি করতে পারে। কিন্তু ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কোনও একক মালিকানা দাবি করার সুযোগ নেই। এ কারণেই কি বিএনপি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বললেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে চায় না, সে প্রশ্ন উঠছে। এটি মূলত ইতিহাসের সুবিধাজনক ব্যাখ্যা এবং রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার প্রবণতা।

হাসনাত আরও বলেন, 

রাষ্ট্রপতি কিছুদিন আগে বলেছেন, তারা বিপ্লবে বিশ্বাস করেন না; তারা একটি বিশুদ্ধ গণতান্ত্রিক দল। অথচ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ৭ নভেম্বর বিপ্লব দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে এমন বৈপরীত্য রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করে।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, 

ওই সময়ে গণতন্ত্র হত্যা এবং বিভিন্ন অপকর্মের কারণে রাষ্ট্র বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলো। কিন্তু এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত না করেই জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের আলোচনা করার আগে দলটির বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান হাসনাত। তার মতে, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বিচার শেষে কারা অপরাধী আর কারা অপরাধী নন, তা আদালত ও বিচারব্যবস্থা নির্ধারণ করবে। এরপরই দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সিদ্ধান্ত আসা উচিত।

বিএনপি সরকারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে হাসনাতের দাবি, সরকার দায়িত্ব নেয়ার প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও মূল্যস্ফীতি কমেনি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মূল্যস্ফীতি এক অঙ্কে নামিয়ে আনার কথা বলা হলেও তা এখনো ১২ শতাংশের ওপরে রয়েছে।

রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের মালিকানাবোধ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের মধ্যে এমন অনুভূতি তৈরি করতে হবে যে রাষ্ট্রটি তার নিজের। পার্শ্ববর্তী কোনও দেশ নাগরিকত্ব দেয়ার প্রস্তাব দিলেও যেনো একজন মানুষ নিজের দেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে যেতে না চান। নাগরিককে যথাযথ মর্যাদা, অধিকার ও সুযোগ দিতে পারছে কি না, সেটিই রাষ্ট্রের সক্ষমতার বড় পরীক্ষা।

বিএনপি সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন এনসিপির এ নেতা। তিনি বলেন, আগামী এক বছরে প্রতিটি নীতিক্ষেত্রে বিএনপি সরকার ব্যর্থ হবে। প্রশাসন থেকে অর্থনীতি, বিভিন্ন খাতেই ব্যর্থতা দেখা যাবে। তার এ বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, তখন বিএনপি নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এখনও ইতিহাসের দেয়া সুযোগ রয়েছে। সে সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।

আলোচনা সভায় লেখক ও চিন্তক ইমরুল হাসান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানকে বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর আগে ও পরের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজাতদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষমতাকেন্দ্রের ভূমিকার আলোকে দিনটিকে বিশ্লেষণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের অন্যতম তাৎপর্য ছিলো একদলীয় শাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষমতাকেন্দ্র আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাওয়া। তবে এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সরাসরি জনবান্ধব রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

জনগণের মুক্তির আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি বারবার প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি বলেন, 

বাংলাদেশের মানুষ যখনই গণ-অভ্যুত্থান বা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মুক্তির সুযোগ পেয়েছে, বিএনপি তখন সে আন্দোলনের সুফল ভোগ করেছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা করেছে দলটি। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকার মধ্যে এ প্রবণতা দেখা গেছে।

আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে একধরনের দীনতা রয়েছে। নিজেদের স্বার্থ জড়িত থাকলে কোনও ঘটনাকে বিপ্লব বলতে দলটির দ্বিধা হয় না। কিন্তু যে আন্দোলন দেশের মানুষকে স্বৈরাচার থেকে মুক্তি দেয়, সেটিকে বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায় না। কখনও শুধু আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিটি ঘটনার সুবিধাভোগী হলেও পরবর্তী সময়ে বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দলটির এ অবস্থান রাজনৈতিক দৃঢ়তার অভাব, বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতা নাকি হীনম্মন্যতার প্রকাশ, তা বিএনপির নেতৃত্বকে বিবেচনা করতে হবে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দলটির শাসনামলের অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত না করায় সে উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পুনর্মিলনের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে পরিণত হয়েছিলো। বিএনপিকে একই ভুল দ্বিতীয়বার না করার আহ্বান জানান তিনি।

সারোয়ার তুষার বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল এবং বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছিলো। বাকশাল তথা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বরের ঘটনা ঘটে।

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, 

তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে সামরিক শাসকেরা ক্ষমতা গ্রহণের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান পরবর্তী সময়ে রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। এটি তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে রাজনৈতিক পরিসর উন্মুক্ত হওয়ার পর কিছু প্রান্তিক রাজনৈতিক শক্তিও সেখানে জায়গা পেয়েছিলো। এর মূল্যও তাকে দিতে হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরবর্তী সরকারব্যবস্থা প্রসঙ্গে সারোয়ার তুষার বলেন, ওই সময় খন্দকার মোশতাক আহমদ ছিলেন একজন বেসামরিক রাজনৈতিক ব্যক্তি। তার নেতৃত্বে গঠিত সরকারেও আওয়ামী লীগের নেতারা ছিলেন। ২০ আগস্ট জারি করা সামরিক ফরমানেও সংবিধান বহাল রাখার কথা বলা হয়েছিলো। অর্থাৎ সংবিধান বাতিল না করেই সামরিক ফরমানের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর সংবিধান ও রাষ্ট্রের কাঠামো নিয়ে আলোচনার সময় সংবিধান বহাল রেখে একটি জুলাই ঘোষণাপত্র দেয়ার সুযোগ ছিলো। কিন্তু বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সে উদ্যোগ আটকে দিয়েছে।

এনসিপিকে ‘কিংস পার্টি’ আখ্যা দেয়ার সমালোচনা করে সারোয়ার তুষার বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, বিভিন্ন দল থেকে লোকজন নিয়ে সংগঠন তৈরি করেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করেছেন। সত্যিকার অর্থে ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় কোনও দল গঠিত হলে এনসিপি কিংবা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখন ক্ষমতায় থাকতেন। জিয়াউর রহমানের দল পরবর্তী সময়ে জনভিত্তি তৈরি করতে পেরেছিলো বলেই তাকে শুধু ক্ষমতাসীনদের তৈরি দল হিসেবে দেখা যায় না।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক অবদান থাকলেও তার শাসনামলের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতা বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে দেয়নি। সামরিক আইনের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে পরে সেগুলোকে পুরোনো সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা ছিলো বড় ভুল।

বিএনপির গণভোটের ইতিহাস তুলে ধরে সারোয়ার তুষার বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে গণভোট হয়েছে। খালেদা জিয়ার আমলেও গণভোটের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। বিএনপির ইতিহাসে গণভোটের গুরুত্বপূর্ণ নজির রয়েছে। অথচ দলটির বর্তমান নেতৃত্ব গণভোটের ম্যান্ডেট থেকে সরে আসছে কেনো, সে প্রশ্ন উঠছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, 

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে গুপ্তচর খোঁজার পাশাপাশি নিজের দলের ভেতরে কারা সরকারকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন, সেটিও খুঁজে দেখা উচিত।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করেন সারোয়ার তুষার। তার দাবি, ওই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ৪ আগস্ট একটি বাড়ি ভাঙচুরের কথা বলেছেন। অথচ ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের দায় এনসিপির ওপর চাপানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব একটি কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার কথা গর্বের সঙ্গে বলেছেন। কিন্তু এ ধরনের বক্তব্যের জন্য তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের সমালোচনা দেখা যায় না। এনসিপির কোনও নেতা এমন কথা বললে গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, অন্যদের মধ্যে গুপ্তচর খোঁজার আগে নিজেদের দলের মধ্যে কারা ভুল পরামর্শ দিচ্ছেন, তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের প্রশ্নে জিয়াউর রহমান যে ভুল করেছিলেন, বিএনপি যেনো দ্বিতীয়বার সে ভুল না করে।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক বলেন, সংবিধানে কোনও বিধান থাকুক বা না থাকুক, জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছা ও রায়ই রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে বড় বৈধতার উৎস। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েছিলেন, একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত গণভোটের রায়ও মেনে নেয়া উচিত।

এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জনগণের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় এনসিপির মিডিয়া সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত সঞ্চালনা করেন। এতে দলের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাকের সামরিক আইন জারির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলো, তা বোঝা জরুরি।

একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কীভাবে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের ক্ষেত্র তৈরি করেছিলো, সেটিও আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য দেখে কেঁদেছিলাম: সোনিয়া গান্ধী
ইসরায়েলের পতন হতে যাচ্ছে: নেতানিয়াহু
তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন ডাচেস সোফি
নেতানিয়াহুর বিদায়ঘণ্টা! সরকার গঠনের দায়িত্বে গাদি আইজেনকট
হাতকড়া পরেই দেশে ফিরবেন পলাতক হাসিনা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
৭ নভেম্বরকে বিপ্লব, ২৪-কে নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ
পুরুষ মডেল ভাড়া কর প্রেমিকের আদলে ছবি তুলছেন চীনা তরুণীরা
অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা ছিলো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিসাইলের রেঞ্জ ২ হাজার কিমি পাল্লার সীমা তুলে নিলো ইরান
মিরপুরে বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে আগুন
‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জনসমুদ্র
প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ড. মোশাররফের পুত্রবধূ নাইমার
মোদি সরকারের আমলে ২০ কোটি মুসলিম নিপীড়নের শিকার: সোনিয়া
জিয়াকে উদ্ধার করেছিলো সেনাবাহিনী, জাসদ নয়: সাখাওয়াত
কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
রেডি হও জামায়াত, পাকিস্তানই তোমাদের জায়গা: পাপিয়া
বিএনপির প্রচারণায় বাজলো হাসিনার গান, ভাইরাল ভিডিও
কোনও ডিসেম্বরে আপার ফেরার সুযোগ নেই: নাহিদ
পরাজিত শক্তি আবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: প্রধানমন্ত্রী
জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন: এনসিপির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
পরীমনির বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ, সিজেএফডির নিন্দা
আইনশৃঙ্খলা সামলাতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদের চরিত্র হননে ব্যস্ত: জামায়াত
বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে