পিলখানা হত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন হাসিনা
আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এ দিনে ঢাকার পিলখানা সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দিনটিকে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান। বাণীতে তিনি বলেন, পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বিস্তারিত মন্তব্যের অবকাশ নেই। তবে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। হত্যা মামলার রায়ে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। ২৮৩ জন খালাস পান। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
অন্যদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি এখনো নিম্ন আদালতে বিচারাধীন। এ মামলায় ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরক আইনের মামলায় প্রথমবারের মতো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আসামি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, আইনে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন জানান, দুটি পৃথক মামলা রয়েছে একটি হত্যা মামলা, যার বিচারিক ধাপ শেষে আপিল বিভাগে রয়েছে; অন্যটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা, যা এখনো বিচারিক আদালতে চলমান। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অনেক আসামি কারাগারে আছেন। ইতোমধ্যে ৩০০ জনের বেশি জামিন পেয়েছেন এবং আরও যাদের জামিন প্রাপ্য, তারাও শিগগির জামিন পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘসূত্রতায় বিচারপ্রক্রিয়া ভুক্তভোগী পরিবার ও আসামি উভয় পক্ষকেই ক্লান্ত করে তুলেছে। হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত কয়েকজনও বিস্ফোরক মামলায় একত্রে অন্তর্ভুক্ত থাকায় জামিন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নতুন করে কাউকে আসামি করা যাবে কি না এ প্রশ্নে চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। প্রয়োজন মনে করলে পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
১৭ বছর পরও পিলখানা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত হয়ে রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘ যাত্রা, নতুন করে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আসামি করার উদ্যোগ এবং আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা সব মিলিয়ে মামলাটি আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সবার দেশ/এফএস




























