Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:১৪, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

শেখ হাসিনার সাবেক পিয়নের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মামলা

শেখ হাসিনার সাবেক পিয়নের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মামলা
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তরের সাবেক আলোচিত কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে পানি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং (অর্থপাচার) মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) নোয়াখালীর চাটখিল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয় বলে সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান জাহাঙ্গীর আলম একসময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তরে ‘ব্যক্তিগত সহকারী’ হিসেবে দায়িত্ব পান। এ অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আর্থিকভাবে অস্বাভাবিকভাবে সমৃদ্ধ হন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

২০১০ সালে জাহাঙ্গীর আলম ‘স্কাই রি অ্যারেঞ্জ লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবসা শুরু করেন। তবে সিআইডির দাবি, এ ব্যবসা ছিল কেবল আড়াল—এর পেছনে চলত অস্বচ্ছ ব্যাংক লেনদেন ও সন্দেহজনক অর্থ প্রবাহ। কোম্পানির নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, যেখানে ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫৬৫ কোটিরও বেশি টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সিআইডি বলছে, এসব টাকার উৎসের কোনো বৈধ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে জমা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে, যা হুন্ডি ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংস্থার তথ্যানুযায়ী, জাহাঙ্গীর আলম তার স্ত্রী কামরুন নাহার ও ভাই মনির হোসেনের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অর্থ লেনদেনে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের জুন মাসে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বিনিয়োগ বা সম্পত্তি ক্রয়ের কোনো সরকারি অনুমোদন বা বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।

সিআইডির দাবি, ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী, ভাই এবং প্রতিষ্ঠান স্কাই রি অ্যারেঞ্জ লিমিটেড যৌথভাবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এ অপরাধচক্রের পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে ও বিদেশে পাচারকৃত অর্থের উৎস অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশে তাদের সম্পদ জব্দ এবং সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্যও অভিযান চলছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অর্থনৈতিক অপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিআইডির মতে, তিনি সরকারি চাকরির সীমিত আয় ছাড়াও অস্বাভাবিকভাবে সম্পদশালী হয়ে ওঠেন—যার কোনো হিসাব তিনি দিতে পারেননি।

সবার দেশ/এফও 
 

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন