৩ মডেলের আইফোন ব্যবহারকারীরা পাবেন ত্রিশ হাজার কোটি টাকা
আইফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন দেয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে অ্যাপল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। তবে এ অর্থ পাবেন না সব আইফোন ব্যবহারকারী। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেনা তিন ধরনের আইফোনের যোগ্য ক্রেতারাই এ নিষ্পত্তির আওতায় পড়বেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে অ্যাপল এ অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, অ্যাপল তাদের বিজ্ঞাপনে আইফোনের ভার্চুয়াল সহকারী সিরির বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সক্ষমতা তুলে ধরেছিলো। কিন্তু বিজ্ঞাপনে প্রচারিত কিছু সুবিধা বাস্তবে চালু ছিলো না।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করে অনেক গ্রাহক আইফোন কিনতে প্রভাবিত হয়েছেন। এ নিয়ে দায়ের করা মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য অ্যাপল ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল দিতে সম্মত হয়েছে।
ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর। আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যোগ্য গ্রাহকেরা আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি আবেদন জমা দেয়া যাবে। একই সময়ের মধ্যে চাইলে গ্রাহকেরা মামলার প্রস্তাবিত নিষ্পত্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারও করতে পারবেন।
যারা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন
২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে কেনা নির্দিষ্ট আইফোনের ব্যবহারকারীরা এ ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৬ সিরিজ, আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স।
তবে শুধু এসব মডেলের মালিক হলেই ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট আইফোনের মূল বা প্রথম মালিক হতে হবে এবং ফোনটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা হয়েছে—এমন শর্তও রয়েছে।
কত টাকা পাওয়া যেতে পারে
যোগ্য গ্রাহকেরা প্রতি ডিভাইসের জন্য ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। তবে প্রত্যেক গ্রাহক শেষ পর্যন্ত ঠিক কত অর্থ পাবেন, তা এখনই নিশ্চিত নয়। কারণ, কতজন যোগ্য গ্রাহক ক্ষতিপূরণের দাবি জমা দেন, তার ওপর চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে।
আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন
ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাবটি এখনও আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফক্স ফাইভ নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নিষ্পত্তিটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পর্যাপ্ত কি না, তা আদালত পর্যালোচনা করবেন।
এ বিষয়ে আগামী বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের অনুমোদনের পরই নিষ্পত্তির অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
সবার দেশ/কেএম




























