রাজনৈতিক উত্থান-পতন ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে স্মরণ
শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আজ
আজ ১৭ মার্চ মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও পরবর্তী রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন এবং ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি হন। জনগণের চাপের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। মুক্তিলাভের পর তিনি বঙ্গবন্ধু উপাধি পান। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দেয়া ভাষণটি ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ ম্যান্ডেট লাভ করলেও ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি করা হয়। ৭ মার্চের ভাষণের পরে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতার হয়ে ৯ মাস পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি মুক্ত হন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবন ছিলো বিতর্কময়। তার শাসনকালে ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন, স্পিকারকে পিটিয়ে হত্যা, দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী হওয়া, বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন চালানো এবং ৩০ হাজার জাসদ নেতাকে হত্যার মতো নেগেটিভ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন তিনি। তার মৃত্যুতে দেশবাসি উল্লসিত হয় এবং অনেকে মিস্টি বিতরণ করেন।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকার ২০০৯ সাল থেকে এ দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এ দিনটির রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সরকারি ছুটি বাতিল করে।
সবার দেশ/কেএম




























