Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩২, ১৫ জুন ২০২৬

সংসদে হিজাব-নিকাব নিয়ে মন্তব্যের প্রতিবাদ 

এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি আলেম সমাজের

এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি আলেম সমাজের
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে হিজাব ও নিকাব পরিহিত নারীদের নিয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাধারণ আলেম সমাজ। সংগঠনটি ওই মন্তব্যকে ধর্মীয় অনুভূতি, সাংবিধানিক অধিকার ও ব্যক্তিগত মর্যাদার পরিপন্থী উল্লেখ করে সংসদ সদস্যের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। সংসদে উচ্চারিত প্রতিটি বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং তা দেশের সামাজিক মূল্যবোধ, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। সে কারণে হিজাব বা নিকাব পরিহিত নারীদের নিয়ে কৌতুক, বিদ্রুপ কিংবা সন্দেহ প্রকাশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সাধারণ আলেম সমাজের নেতারা বলেন, সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যে হিজাবধারী ও পর্দানশীন নারীদের পরিচয় ও উপস্থিতি সম্পর্কে সন্দেহের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ জাতীয় সংসদে প্রবেশের ক্ষেত্রে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিচয় যাচাই ও কঠোর প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। ফলে বোরকার আড়ালে অন্য কেউ থাকতে পারে—এ ধরনের মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি পর্দানশীন নারীদের প্রতি অযৌক্তিক সন্দেহ ও সামাজিক অপমানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হিজাব বা নিকাব শুধু পোশাক নয়; এটি বহু মুসলিম নারীর ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংবিধানিক অধিকার এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনও নারীর ধর্মীয় অনুশীলন বা পোশাক নির্বাচনকে বিদ্রুপ কিংবা প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে তা তার ব্যক্তিগত মর্যাদা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।

সংগঠনটি মনে করে, একটি গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পোশাক নির্বাচনের অধিকারকে সম্মান ও সুরক্ষা দেয়া। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন কোনও বক্তব্য দেয়া উচিত নয়, যা কোনো জনগোষ্ঠী বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈষম্য, অস্বস্তি কিংবা নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করে।

এদিকে সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের পর স্পিকারের তাৎক্ষণিক আপত্তি এবং বক্তব্যের বিতর্কিত অংশের বিষয়ে অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সাধারণ আলেম সমাজ। সংগঠনটির মতে, স্পিকারের ভূমিকা সংসদীয় শিষ্টাচার, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

তবে তারা সংশ্লিষ্ট বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করার এবং পর্দানশীন নারীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক মর্যাদা ও মানবিক সম্মানের প্রশ্নে কোনও ধরনের আপসের সুযোগ নেই। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়, যেখানে কোনও নারী তার ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস বা পোশাকের কারণে অপমান, বৈষম্য কিংবা সন্দেহের মুখোমুখি হবেন না।

সংগঠনটির মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি সম্মানই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মূল ভিত্তি। তাই জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল বক্তব্য প্রদান করা সকল জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ধ্বংসাবশেষের ধাক্কা থেকে বাঁচলো বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
রোহিঙ্গাদের ৫ শর্ত, না হলে ফিরতে নারাজ ৮৭%
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতা, সরকারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি ক্রিস্টা পাইকের
এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান
মাহমুদউল্লাহর ৮ ছক্কা, তবু হার বাংলাদেশের
পর্দার ফাটাকেষ্ট এবার সত্যিই মন্ত্রী!
ফের বাড়লো জেট ফুয়েলের দাম
মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠাবে সরকার
মেসির বিদায়ে ভালোবাসায় ভাসালো বার্সা
বন্ধুত্ব চাইলে ভারতকে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে: নাহিদ
এমপির উপস্থিতিতে জামায়াত আমিরকে মারধর
রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতাদের টেনে-হিঁচড়ে আটক