১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধনের নির্দেশ
টাঙ্গুয়ার হাওরের সংরক্ষিত এলাকায় পর্যটকবাহী নৌযান নিষিদ্ধ
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষিত অংশে সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ এবং চলাচল নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে হাওরে পরিচালিত সব হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানকে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শনিবার জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’-এর আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএ ঘোষিত এলাকার অভ্যন্তরে কোনও ধরনের হাউসবোট বা পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ কিংবা চলাচল করতে পারবে না।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে বেশ কয়েকটি বাধ্যতামূলক নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। প্রতিটি হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানে দৃশ্যমান স্থানে পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি প্রদর্শন করতে হবে এবং যাত্রা শুরুর আগে তা পর্যটকদের জানিয়ে দিতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাউসবোট বা নৌযানে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার কিংবা কোনও ধরনের পার্টি আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এছাড়া একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি হাউসবোটে নিরাপদ পানীয় জলের জন্য পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার রাখতে হবে এবং নৌযানের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
পর্যটকদের জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর নৌযানে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি হাউসবোট ও নৌযানে পর্যাপ্তসংখ্যক লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া রিং ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ দূষণ রোধে প্রতিটি হাউসবোটে বাধ্যতামূলকভাবে সেপ্টিক ট্যাংক স্থাপন করতে হবে। অন্যান্য বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য কমপক্ষে দুটি ডাস্টবিন রাখতে হবে এবং কোনও ধরনের বর্জ্য হাওর বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না। প্রতিটি ভ্রমণে বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নৌযানের মালিক ও ট্যুর অপারেটরদের ওপর দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আকস্মিক ঝড়, ভারী বৃষ্টিপাত বা বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ বরাবর তালিকাভুক্তি ও নিবন্ধনের আবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে সংশ্লিষ্ট হাউসবোট, নৌযান বা ট্যুর অপারেটরকে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হবে না।
নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আবেদন ও নিবন্ধনসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত (পরিদর্শন) ডেপুটি কালেক্টরের (এনডিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























