জিয়াউর রহমানের নামে ব্যবসা হতে দেবো না: নাহিদ ইসলাম
‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও দখলদারিত্বের’ প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে কোনও নেতার নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি বলেন, অতীতে যেমন শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ব্যবসা হয়েছে, তেমনি এখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামেও কোনও ধরনের ‘ব্যবসা’ হতে দেয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেটের কানাইঘাটে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন,
আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা করি, বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তাদের ছবি ও পোস্টার টানিয়ে সন্ত্রাস করবেন, জমি দখল করবেন, ভূমি দখল করবেন—এটা আমরা মেনে নেবো না।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৬ বছর দেশে মুজিবের নামে ব্যবসা হয়েছে। এখন আমরা জিয়াউর রহমানের নামে কোনও ব্যবসা হতে দেবো না। অবিলম্বে জিয়া ব্যবসা বন্ধ করুন, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করুন এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করুন।
সংস্কার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জনগণের কথা বলার অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশে নতুন করে কোনো স্বৈরাচার বা জুলুমবাজকে ক্ষমতায় থাকতে দেবো না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে বলেছিলেন, দেশে ফিরে আপনার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু একজন কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীর চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় আপনার সরকারের অবস্থান কী? হবিগঞ্জে জিকে গউসের অনুসারীদের হামলায় একজন জুলাইযোদ্ধা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সে চোখ আপনাকেই ফিরিয়ে দিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে গুলিতে বহু মানুষের চোখ নষ্ট হয়েছিলো। নতুন বাংলাদেশেও যদি একই ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। আহত শিক্ষার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, কানাইঘাটের ঘটনাপ্রবাহ দেখে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, লাঠিয়াল বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ভোট কারচুপির চেষ্টা হতে পারে।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, তা ঠেকাতে পারিনি। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনও ধরনের কারচুপি, লাঠিয়াল বাহিনী কিংবা সন্ত্রাসীদের জায়গা করে দেয়া হবে না। জনগণকে এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ এবং ডা. মাহমুদা মিতু।
সবার দেশ/কেএম




























