রুমিন ফারহানা যে শর্তে ফিরতে চান বিএনপিতে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন রুমিন ফারহানা। নির্বাচনের পরদিন হাঁস কোলে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে তিনি দলে ফেরা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
সাবেক এ বিএনপি নেত্রী জানান, তাকে দলে ফিরতে হলে আগে তার সমর্থনে কাজ করায় বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদেরও দলে পুনর্বহাল করতে হবে। তিনি বলেন,
আমার জন্য যারা ১৭ বছর ধরে কষ্ট করেছে, বহিষ্কার হয়েছে—তাদের বাদ দিয়ে আমি দলে ফিরবো না।
রুমিন ফারহানা একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করায় গত ৩০ ডিসেম্বর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর অভিযোগে সরাইল উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের ১০ জন নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়।
হাঁস প্রতীক বেছে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই হাঁস-মুরগি পালনের অভ্যাস ছিলো। আমার অনেক হাঁস ছিলো, মোরগ ছিলো, কবুতর ছিলো। এখনও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমার হাঁস-মুরগি আছে। অবসর সময়ে তাদের সঙ্গেই সময় কাটাই। সে আবেগ থেকেই হাঁস প্রতীক নিয়েছি, জানান তিনি।
নিজের নির্বাচনি লড়াইকে কঠিন উল্লেখ করে রুমিন বলেন, আমার জার্নিটা কঠিন ছিলো, কিন্তু আমার নেতাকর্মীদের জার্নি আরও কঠিন ছিলো। আমি না জিতলে হয়তো ঢাকায় ফিরে পেশায় চলে যেতাম। কিন্তু আমার কর্মীরা? তারা ১৭ বছর ধরে ঘরে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি।
ভোটের দিন অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি। দাবি করেন, দুপুরের পর কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট ছাপানোর ও ফল আটকে রাখার চেষ্টা হয়েছে। জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে গিয়ে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর কেন্দ্রে প্রবেশ করে পুনরায় ভোট গণনা করানোর কথাও জানান তিনি।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, হাঁস প্রতীক নিয়ে রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জুনায়েদ আল হাবীব খেজুর গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। প্রায় ৩৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি আসনটি নিজের দখলে নেন।
এখন প্রশ্ন—বিএনপি কি বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের পুনর্বহাল করে রুমিন ফারহানাকে দলে ফিরতে পথ তৈরি করবে, নাকি এ জয় তাকে স্বতন্ত্র রাজনীতিতেই নতুন অবস্থান দেবে? রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়েই চলছে জোর আলোচনা।
সবার দেশ/কেএম




























