সমাজে একজন জিয়া গড়ে উঠলেই যথেষ্ট: ডেপুটি স্পিকার
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই বলি—এক জিয়া লোকান্তরে, লাখো জিয়া ঘরে ঘরে। কিন্তু আমাদের লাখো জিয়ার প্রয়োজন নেই। সমাজে বা প্রতিটি গ্রামে যদি একজন করে জিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলেই দেশ ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের অ্যাডভান্স মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমরা যদি প্রকৃত জিয়াপ্রেমী হই এবং তার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ ও লালন করি, তবেই তার আত্মা শান্তি পাবে। তার যে রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তা রয়েছে, তা যুগ যুগ ধরে অম্লান হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয়। তার লেখা বই ও রাজনৈতিক দর্শন অধ্যয়ন করলে একজন সমাজকর্মী কিংবা রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ব, কর্তব্য ও নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের একজন প্রকৃত সৈনিক হয়ে থাকতে চাই। তার জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আজকের এ শাহাদাতবার্ষিকীর আলোচনা তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা তার আদর্শকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারবো।
নেতৃত্বের গুণাবলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লিডার সবাই হতে পারেন না। প্রকৃত নেতৃত্ব খুব অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। কেউ যদি নিজেকে একজন যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে চান, তাহলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার কাছে অন্যতম অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তার ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞা, সততা, শৃঙ্খলাবোধ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান একজন প্রকৃত নেতার বৈশিষ্ট্য বহন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবদান, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনে তার ভূমিকা এবং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তার অবদান তুলে ধরেন। পরে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও জনগণের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সবার দেশ/কেএম




























