আমিও কষ্ট দেবো বাংলাদেশকে — মনিকা কবির
সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকদিন ধরেই আলোচনার ঝড় তুলেছেন রুশ বংশোদ্ভূত কথিত রুশ-বাংলা মডেল মনিকা কবির। রাজধানীর গুলশানে এক বৃদ্ধ পথচারীকে মারধরের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে এবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এক অডিও বার্তায় মনিকা কবির বলেন, বাংলাদেশ আমাকে কষ্ট দিলে আমিও কষ্ট দেবো বাংলাদেশকে।
সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান-২ এলাকার একটি ব্যস্ত সড়কে টিকটকের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে এক পথচারীর সঙ্গে মনিকা কবিরের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় এক বৃদ্ধ পথচারীর ব্যাগ মনিকার গায়ে সামান্য স্পর্শ করলে তিনি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে ওই বৃদ্ধকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং হাতে থাকা ব্যাগ ছুড়ে মেরে তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন।

ঘটনাটির ভিডিও নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন মনিকা কবির। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শুরু হয় সমালোচনা ও কটাক্ষ। অনেকেই তার আচরণকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেন।
এ ঘটনার পর মনিকা কবিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস ডাকযোগে ওই নোটিশ পাঠান। নোটিশে তাকে ভবিষ্যতে অশালীন ও বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও কনটেন্ট সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মনিকা কবিরের অবস্থানের বৈধতা সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দিতে হবে। বিশেষ করে তার বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে কি না, সে সংক্রান্ত কাগজপত্র উপস্থাপনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে গুলশানের ঘটনায় ইতোমধ্যে আদালতেও মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মনিকা কবিরের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তকে হাজির করার জন্য সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন মনিকা কবির। সেখানে তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের মেয়েদের ওপর পানি ফেলেন দেশে! আমি চলে গেলে এখানে আর কোনও বিদেশি মেয়ে আসবে না— আপনাদের কথা দিচ্ছি। আমি বাংলাদেশের জন্য অনেক কিছু করেছি, আপনাদের কালচারকে আমার দেশে রিপ্রেজেন্ট করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ আমাকে কষ্ট দিলে আমিও কষ্ট দেবো বাংলাদেশকে।

আরেকটি ভাইরাল অডিও ক্লিপে তাকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, আমি চলে যাচ্ছি বাংলাদেশ থেকে। আমার প্রিয় দেশ, তোমায় খুব মিস করবো। এভাবে চলে যেতে হবে ভাবিনি। আমি কোনও অপরাধ করিনি, শুধু কনটেন্ট বানিয়েছিলাম।
জানা গেছে, মনিকা কবিরের প্রকৃত নাম মারিয়া ভ্যালিরিয়েভনা। পরিবারে তাকে ‘মনিশকা’ নামে ডাকা হয়। তার জন্ম রাশিয়ায় এবং বেড়ে ওঠা মস্কোতে। তার মা রুশ নাগরিক ম্যারিয়া গোজেন এবং বাবা একজন ভারতীয় চামড়া ব্যবসায়ী। বাবার ব্যবসার সূত্রে ২০১২ সালে প্রথমবার বাংলাদেশে আসেন তিনি।

এর আগেও তার খোলামেলা পোশাক, আচরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিলো। তবে গুলশানের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























