সমালোচনার জবাবে আমিনুল ইসলামের তির্যক মন্তব্য
‘বাংলাদেশে ভূমিকম্প হলে দায় তারেক রহমানের নয়’
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেয়া নিয়ে চলমান সমালোচনার মুখে বিসিবির সাবেক সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন যদি বাংলাদেশে একটা ভূমিকম্প হয়ে যায়, সেটাও কি তারেক রহমানের ব্যর্থতা হবে?—এ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সব ঘটনার দায় একতরফাভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা বোর্ডের ওপর চাপানো হচ্ছে।
বিশ্বকাপে না যাওয়ার কারণ: নিরাপত্তা
ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করার পেছনে প্রধান কারণ ছিলো নিরাপত্তা উদ্বেগ। বিশেষ করে পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিরাপত্তাজনিত কারণে আইপিএলে অংশ নিতে না দেয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
আমিনুল বলেন,
শুধু লড়াইই করিনি, রীতিমতো যুদ্ধ করেছি। কিন্তু সেটা তো মানুষকে দেখিয়ে করিনি। আসিফ নজরুল সাহেবদের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় থাকা ১৪–১৫ জন পরিচালক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন—নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বিশ্বকাপে যাওয়া সম্ভব নয়।
‘আমাদের লড়াই ভারতের সঙ্গে নয়, আইসিসির কাছে’
তিনি দাবি করেন, ভারতের সঙ্গে তাদের কোনও সরাসরি বিরোধ ছিলো না; বরং তাদের অনুরোধ ছিলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর কাছে।
আমাদের অনুরোধ ছিলো—ভারতের বদলে ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়া হয়। কারণ, সমর্থকরা জার্সি পরে ঘুরতে পারবে না, মোস্তাফিজকে দলে নেয়া যাবে না—এমন অবস্থায় নিরাপত্তা কোথায়?
আয়ারল্যান্ডের সমর্থন
আমিনুল আরও জানান, বাংলাদেশের এ অবস্থানকে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড লিখিতভাবে সমর্থন দিয়েছিলো। আইসিসিকে আমরা যখন লিখলাম, আয়ারল্যান্ড বোর্ড ই-মেইলে জানায়, তারা আমাদের সমর্থন দিতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে গ্রুপ পরিবর্তনেও তাদের আপত্তি নেই।
ক্রিকেটাররা কী চেয়েছিলেন?
বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের মতামত নিয়েও বিতর্ক আছে। এ প্রসঙ্গে আমিনুল বলেন, যারা এখন বলছে, তারা নিজেরাই নিজেদের প্রশ্ন করুক। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে একজন ক্রিকেটারও বলেনি—আমরা খেলতে চাই, আপনারা ব্যবস্থা করুন। সবাই শুধু আফসোস করেছে।
‘আমরা কখনও বলিনি খেলবো না’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিসিবি কখনো বিশ্বকাপ বর্জনের ঘোষণা দেয়নি। আমরা বলেছি, খেলবো—কিন্তু ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ হলে। ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা ভেবেই সিদ্ধান্ত হয়েছিলো।
সবার দেশ/কেএম




























