Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫০, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে দণ্ডিত আরও ২০ বাংলাদেশি, সাজার তথ্য চাইলো কনস্যুলেট

সৌদিতে দণ্ডিত আরও ২০ বাংলাদেশি, সাজার তথ্য চাইলো কনস্যুলেট
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের কারাগারে থাকা ২২ বাংলাদেশির তালিকায় দণ্ডপ্রাপ্ত উল্লেখ থাকলেও তাদের সাজার ধরন ও মেয়াদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেই। তাঁদের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর বাকি ২০ জনের পরিণতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বন্দীদের সাজার বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

গত ১৯ অক্টোবর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো চিঠিতে ২২ বাংলাদেশির রায়ের সারসংক্ষেপ দ্রুত সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা বলছেন, দণ্ডিত বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সুবিধা নিশ্চিত করতে তাদের বিরুদ্ধে দেয়া রায় ও সাজার বিস্তারিত তথ্য জানা জরুরি।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, বাংলাদেশি বন্দীদের বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পেতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের আওতাধীন বিভিন্ন কারাগারে থাকা ২ হাজার ৪৬১ বাংলাদেশি বন্দীর একটি তালিকা পাঠায়। তাদের মধ্যে কারও বিচার শেষ হয়েছে, আবার কারও মামলা এখনও বিচারাধীন।

তালিকাটি পর্যালোচনা করে কনস্যুলেট দেখতে পায়, কয়েকজন বন্দীর ‘অবস্থা’ কলামে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও ‘রায়ের সারসংক্ষেপ’ কলামে কোনও তথ্য নেই। ফলে তাদের কী ধরনের সাজা হয়েছে কিংবা কারাদণ্ড হলে তার মেয়াদ কত, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

কনস্যুলেটের পাঠানো চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত নয় পৃষ্ঠার তালিকা পর্যালোচনা করে এমন ২২ জন বাংলাদেশির তথ্য পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারও ছিলেন। সম্প্রতি তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তালিকায় থাকা অন্য বন্দীদের সাজা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার প্রয়োজনীয়তা আরও সামনে এসেছে।

কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, ২২ জনের মধ্যে আটজন হত্যা মামলায়, পাঁচজন মাদক পাচারের মামলায় এবং পাঁচজন ব্যক্তিগত অধিকার-সংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। এ ছাড়া দুজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে, একজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধে এবং একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মামলায় সাজা হওয়ার তথ্য রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাজার ধরন ও মেয়াদ তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।

বন্দীদের অবস্থানও বিভিন্ন কারাগারে। তাদের মধ্যে ছয়জন জেদ্দার জাহবান কারাগারে, ছয়জন শুমাইসি কারাগারে এবং চারজন জেদ্দা জেনারেল কারাগারে রয়েছেন। বাকি ছয়জন নাজরান, খামিস, আল-বাহা, হাদ্দাহ ও জেদ্দার নারী কারাগারে আছেন।

ব্যক্তিগত অধিকার-সংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত পাঁচ বাংলাদেশিই শুমাইসি কারাগারে রয়েছেন। সাধারণত এ ধরনের মামলা ব্যক্তিগত দাবি বা ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত হতে পারে। তবে মামলার নথি ও রায়ের বিস্তারিত তথ্য না থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা সাজার প্রকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু মামলার ধরন দেখে কোনো বন্দীর সাজা অনুমান করা যায় না। সৌদি আরবে হত্যা মামলায় কিসাসের বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে মামলার পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রক্তপণ বা অন্য ব্যবস্থার মাধ্যমেও মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। ফলে তালিকায় থাকা অন্য কারও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলার মতো তথ্য এখনো কনস্যুলেটের কাছে নেই।

বন্দীদের রায়ের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া তাদের আইনি অধিকার ও কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাজার ধরন ও মেয়াদ জানা না থাকলে আপিলের সুযোগ, আইনজীবী নিয়োগ, রক্তপণ পরিশোধ কিংবা ক্ষমা পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে দেশে থাকা বন্দীদের পরিবারের সদস্যরাও তাদের স্বজনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন।

এদিকে, ১৯ অক্টোবর পাঠানো আরেকটি চিঠিতে ২ হাজার ৪৬১ বাংলাদেশি বন্দীর বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কনস্যুলেট। বন্দীদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে, সাজা শেষ হওয়া বন্দীদের দ্রুত মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো, ভালো আচরণ করা বন্দীদের রাজকীয় ক্ষমার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, প্রথমবার আটক হওয়া ও ছোটখাটো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবশিষ্ট সাজা মওকুফের বিষয় বিবেচনা করা এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করা।

এ ছাড়া আরও দুজন বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে কনস্যুলেট। তাদের পরিবারের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করলেও কেন এবং কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে জানানো হয়নি। তাদের অবস্থান ও গ্রেফতারের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এসব চিঠির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব এখনও পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রায়ের সারসংক্ষেপ ও বন্দীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে তাদের সাজার প্রকৃতি এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ঢাকা-দাম্মাম-রিয়াদ ফ্লাইট ফের স্থগিত
সৌদিতে দণ্ডিত আরও ২০ বাংলাদেশি, সাজার তথ্য চাইলো কনস্যুলেট
জাপানের ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাংলাদেশে
রূপগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণ
দিল্লিতে ৭০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদের উদ্যোগ, মসজিদেও নোটিশ
জুলাই স্বীকার, ক্ষমা চাইলেই আ.লীগের রাজনীতি: তথ্যমন্ত্রী
রেকর্ডের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারালো শ্রীলঙ্কা
সিসিইউতে সংকটাপন্ন মঈন খান, দেখতে গেলেন রিজভী
ভারতে পাচার হওয়া ৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন
ভারতে তিন খ্রিষ্টান পরিবারকে পূজা পালনে বাধ্য করার অভিযোগ
সাইবার হামলার শঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ
বিকিনি পরতে অস্বস্তি হয়: রাশমিকা
সাজেকে গোলাগুলি, নিরাপদে ফিরলেন পর্যটকরা
‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত
৩১ অক্টোবর জামায়াতের লংমার্চ, শুরু বায়তুল মোকাররমে
ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে, অভিজ্ঞতা কম: মনি
পণ্যবাহী গাড়ি আটকে লুট-চাঁদাবাজি, ছাত্রদলের ৮ জনকে শোকজ
রাশিয়ার এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলট অক্ষত