পণ্যবাহী গাড়ি আটকে লুট-চাঁদাবাজি, ছাত্রদলের ৮ জনকে শোকজ
সিলেটের গোয়াইনঘাটে রাতের আঁধারে পণ্যবাহী গাড়ি আটকে মালামাল লুট ও অবৈধ চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতিসহ আট নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সিলেট জেলা ছাত্রদল। নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের কেউ জবাব দেননি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জেলা ছাত্রদলের সহদফতর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন রাহেল স্বাক্ষরিত নোটিশে অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনও জবাব জমা পড়েনি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
শোকজ পাওয়া নেতাকর্মীরা হলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাজিম উদ্দীন, সিনিয়র সহসভাপতি জামাল উদ্দিন, সহসভাপতি বেলাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তুফায়েল আহমেদ হেলু এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী, নাজমুল ইসলাম মান্না, শাহ রিয়াদ আহমেদ ও নাজমুল হাসান নাঈম।
অভিযোগ রয়েছে, রাতের বেলা পণ্যবাহী গাড়ি আটকে মালামাল লুট ও চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে ওই নেতাকর্মীরা জড়িত। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ে।
এদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ভিডিওচিত্র এবং হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের তথ্য থাকার দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগের পরও সরাসরি বহিষ্কার না করে শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তুফায়েল আহমেদ হেলু দাবি করেছেন, তারা চাঁদাবাজি বা মালামাল লুটের সঙ্গে জড়িত নন। তার ভাষ্য, সীমান্ত এলাকায় রাতে বেপরোয়াভাবে চোরাচালানের গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তারা বাধা দিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ চোরাকারবারিরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মুমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে কোনও অপরাধীর স্থান নেই। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























