Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:২৪, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

ইসলামী ব্যাংকে পরীক্ষা ছাড়া এস আলমের ৮৫৪২ কর্মী নিয়োগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন: ২০১৭–২০২৪ সময়ে নিয়োগ ১০,৮৩২; অধিকাংশের বাড়ি চট্টগ্রামে, মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেননি ৪,৯৭১ জন।

ইসলামী ব্যাংকে পরীক্ষা ছাড়া এস আলমের ৮৫৪২ কর্মী নিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত

এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটিতে মোট ১০ হাজার ৮৩২ জন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে কোনও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই শুধু জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহ করে ৮ হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। নিয়োগ ও পরবর্তী ছাঁটাই প্রক্রিয়া যথাযথ ছিলো কি না, তা যাচাই করতে গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনটি তৈরি করে। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এতে কোনও সুপারিশ না করে নিয়োগ ও ছাঁটাই-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকেই নিয়োগ ৮ হাজার ৯৯ জন

পরিদর্শন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের মোট কর্মীসংখ্যা ছিলো ২১ হাজার ৫৫১। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ দেয়া হয় ১০ হাজার ৮৩২ জনকে।

এ নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে পরীক্ষা ও বিজ্ঞপ্তি ছাড়া সিভি নিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৮ হাজার ৫৪২ জনকে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা ছিলেন ৮ হাজার ৯৯ জন। আর শুধু চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন ৫ হাজার ১৪৮ জন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অধিকাংশ প্রার্থী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া এবং গ্রুপের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে রাখা বাক্সে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলেন।

তবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির নিয়োগের প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা পৃথকভাবে কী ছিলো, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কী পরিমাণ বিস্তারিত তথ্য রয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি।

২৭ পদে নিয়োগ, পরীক্ষা ছাড়াই সর্বাধিক ক্যাশ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়া ইসলামী ব্যাংকে মোট ২৭টি পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এসব নিয়োগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলো ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) ও ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার পদে।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত পদভিত্তিক নিয়োগের চিত্র:

উল্লিখিত পদগুলো ছাড়াও অন্যান্য পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানবসম্পদ নীতিমালায় বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা

ইসলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করতে অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিধান রয়েছে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

নীতিমালায় পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বরকে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনার কথা উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নীতিমালা অনুসরণ না করে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

উচ্চপদেও বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগ

প্রতিবেদনে শুধু সাধারণ কর্মী নয়, ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি পদে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগের তালিকায় রয়েছে:

  • ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি): ২ জন।
  • উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি): ৮ জন।
  • সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি): ২ জন।
  • ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল: ১ জন।
  • এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি): ৫ জনের মধ্যে ৪ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ডিএমডি পদে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং পূর্ববর্তী পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এস আলমের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আকিজ উদ্দিনকে আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা থাকা অবস্থায় এবং মিফতাহ উদ্দীনকে ১৭ বছরের অভিজ্ঞতায় ডিএমডি পদে নিয়োগ দেয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

যোগ্যতা যাচাইয়ে সিদ্ধান্ত, হাইকোর্টে রিট

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ পরিদর্শন এবং চারটি বহির্নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিরীক্ষায় ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগে অনিয়ম চিহ্নিত হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

মূল্যায়ন পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট দুই কর্মী হাইকোর্টে রিট করেন। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন আদালত। পরবর্তী সময়ে ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মূল্যায়ন পরীক্ষা নিতে বাধা নেই বলে জানানো হয়।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করে।

মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেননি ৪,৯৭১ কর্মকর্তা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল্যায়ন পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ৩৭৩ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে মাত্র ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৪০২ জনই চাকরিতে বহাল রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ৪ হাজার ৯৭১ জন কর্মকর্তা মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। বিভিন্ন কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা আরও ২৮৭ জনকে পরবর্তী সময়ে প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়।

মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার কারণ, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য এবং তাদের চাকরির অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কী তথ্য রয়েছে, তা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

৪,৬৮৫ জনকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার ৬৮৫ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের জেলার ভিত্তিতে প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য:

এ ছাড়া পাঁচজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়। বিভিন্ন অভিযোগে ১২১ জন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নবায়ন না করায় ১ হাজার ১৯০ জন এবং অন্যান্য কারণে ১৩৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগ ও ছাঁটাই নিয়ে প্রশ্ন, প্রতিবেদন গভর্নরের কাছে

ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ ও ছাঁটাই প্রক্রিয়া নিয়ে ছাঁটাই হওয়া কর্মী এবং ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের পালটাপালটি কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্তের উদ্যোগ নেয়। চলতি বছরের এপ্রিলে গঠিত কমিটি নিয়োগ ও পরবর্তী ছাঁটাই প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে নিয়োগ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা যাচাই এবং ছাঁটাই-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলেও কোনো সুপারিশ করা হয়নি।

প্রতিবেদনটি এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জমা রয়েছে। এতে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কোনো প্রশাসনিক, নিয়ন্ত্রক বা আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনও সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়নি।

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

৩ মডেলের আইফোন ব্যবহারকারীরা পাবেন ত্রিশ হাজার কোটি টাকা
লঞ্চ ভাড়া বাড়লো ৮ শতাংশ, বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর
নেতানিয়াহুর বক্তব্যে জাতিসংঘে ব্যাপক ওয়াকআউট
কাস্পিয়ান সাগরে ভেসে গেলো ১৯ সেনা, নিহত ৯
এক ট্রলারে ধরা পড়লো ৬০ মণ ইলিশ
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জামায়াত আমিরের ক্ষোভ
তারেক রহমান-পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বিকাশসহ চার ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক ওসি রাকিবুল রিমান্ডে
নতুন হাওয়া ভবনের ম্যানেজার মীর শাহে আলম: সারজিস
আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস ২০২৬
মেঘনায় ট্রলারডুবি, নিহত ১ নিখোঁজ ৪
জাতিসংঘে জাইমার নতুন দায়িত্ব
জানুয়ারিতে স্থানীয় নির্বাচনের কথা ভাবছে ইসি: আনোয়ারুল ইসলাম
ভারতে স্লিপার বাসে আগুন, নিহত ৯
ইসলামী ব্যাংকে পরীক্ষা ছাড়া এস আলমের ৮৫৪২ কর্মী নিয়োগ
ককটেল ফোটালেই ৫ হাজার টাকা, নির্দেশনা ভারতীয় নম্বরে