কাতার বিমানবন্দরে বিদেশিদের ভিড়, ছড়ালো দেশ ছাড়ার গুজব
কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো মানুষের ভিড় এবং দীর্ঘ লাইনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটিতে বিদেশিদের দেশ ছাড়ার গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এসব ভিডিও দেখে অনেকে দাবি করেন, সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় বিদেশি নাগরিক ও শ্রমিকরা কাতার ছাড়ছেন। তবে এ দাবির কোনও সত্যতা নেই। বিমানবন্দরে ওই ভিড়ের পেছনে ছিলো একটি পূর্বপরিকল্পিত জাতীয় নিরাপত্তা মহড়া।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ও বাইরের অংশে বিপুলসংখ্যক মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওগুলো প্রকাশের পরপরই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ভিডিওগুলোর যোগসূত্র তৈরি করে অনেকে বিদেশিদের কাতার ছাড়ার খবর প্রচার করতে থাকেন।
কেউ কেউ দাবি করেন, আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কাতারে বসবাসরত বিদেশি শ্রমিক ও অন্যান্য নাগরিক নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হয়। তবে যাচাই না করেই ছড়িয়ে পড়া এসব দাবি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
কাতারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে মানুষের এ উপস্থিতি কোনও জরুরি দেশত্যাগ কিংবা বিদেশিদের গণহারে দেশ ছাড়ার ঘটনা নয়। বরং এটি ছিলো দেশব্যাপী পরিচালিত ‘ওয়াতান ২০২৬’ নামের একটি নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা মহড়ার অংশ।
গত সোমবার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। তাদের অংশগ্রহণের কারণে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে সাময়িকভাবে মানুষের ভিড় তৈরি হয়। মহড়ার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ের দৃশ্য ধারণ করা হয়। পরে এসব ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সেগুলোকে বাস্তব কোনও জরুরি পরিস্থিতির দৃশ্য বলে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়।
মূলত বড় ধরনের দুর্ঘটনা, নিরাপত্তাঝুঁকি কিংবা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তা যাচাই করাই ছিলো এ মহড়ার উদ্দেশ্য। এ ধরনের মহড়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি, পারস্পরিক যোগাযোগ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে কাতারের বিমানবন্দরের ভিডিওগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে শুধু বিমানবন্দরে মানুষের ভিড় দেখেই বিদেশিদের দেশত্যাগের মতো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো বিদেশিদের গণহারে কাতার ছাড়ার প্রমাণ নয়। ‘ওয়াতান ২০২৬’ নামের পূর্বনির্ধারিত নিরাপত্তা মহড়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের কারণেই ওই ভিড়ের সৃষ্টি হয়েছিলো।
সবার দেশ/কেএম




























