ব্রিটেনে বিরল যমজ রহস্য উন্মোচন
একই মায়ের গর্ভে যমজ সন্তান, কিন্তু বাবা ভিন্ন
একই দিনে জন্ম, একই মায়ের গর্ভে বেড়ে ওঠা, আজীবনের আত্মিক বন্ধন—সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক যমজ বোনের মতো। কিন্তু একটি ডিএনএ পরীক্ষা বদলে দেয় মিশেল ওসবোর্ন ও লাভিনিয়া ওসবোর্ন–এর জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য।
পরীক্ষায় উঠে আসে, তারা যমজ হলেও তাদের বাবা আলাদা। অর্থাৎ একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে জন্ম নেয়া এ দুই বোন আসলে সৎ বোনও।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিরল এ ঘটনাকে বলা হয় Heteropaternal superfecundation। এমন ঘটনা ঘটে যখন এক ঋতুচক্রে নারীর একাধিক ডিম্বাণু ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়।
বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ২০টি এমন ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। আর বিবিসি রেডিও ৪–এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, মিশেল ও লাভিনিয়াই যুক্তরাজ্যের প্রথম নথিভুক্ত যমজ, যাদের জৈবিক বাবা আলাদা।
১৯৭৬ সালে নটিংহাম–এ জন্ম হয় এ যমজ বোনের। তখন তাদের মা ছিলেন মাত্র ১৯ বছর বয়সী। শৈশব থেকেই তারা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বড় হন। পাঁচ বছর বয়সে মা তাদের রেখে লন্ডন–এ চলে যান পড়াশোনার জন্য। পরে মায়ের এক পরিচিত নারীর তত্ত্বাবধানে বড় হন তারা।
মিশেল বলেন, আমরা দুই বোনই ছিলাম একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসা। বাইরের পৃথিবীর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই ছিল একসঙ্গে।
কৈশোরে তারা ‘জেমস’ নামের এক ব্যক্তিকে বাবা হিসেবে চিনতেন। কিন্তু মিশেলের মনে সবসময় সন্দেহ ছিলো। ২০২১ সালে তাদের মায়ের ডিমেনশিয়া ধরা পড়লে সত্য জানার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে যায়। এরপরই মিশেল ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেন।
২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, যেদিন তাদের মা মারা যান, সেদিনই আসে ডিএনএ পরীক্ষার ফল। তাতে জানা যায়, জেমস মিশেলের বাবা নন। পরে অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন, তার জৈবিক বাবা ‘অ্যালেক্স’ নামের এক ব্যক্তি।
অন্যদিকে লাভিনিয়াও পরে নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করান। ফলাফলে দেখা যায়, তার জৈবিক বাবা ‘আর্থার’ নামের আরেক ব্যক্তি।
বর্তমানে লাভিনিয়া তার বাবা আর্থারের কাছাকাছি এলাকায় থাকেন। আর্থার দুই বোনকেই আপন করে নিয়েছেন। তার কাছ থেকেই তারা জানতে পারেন, কঠিন এক সময়ে সাহায্য চাইতে গিয়ে তাদের মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিলো।
অন্যদিকে মিশেল তার জৈবিক বাবা অ্যালেক্সের সঙ্গে দেখা করলেও সম্পর্ক গভীর করতে আগ্রহ দেখাননি।
এ ঘটনার পরও দুই বোনের সম্পর্ক অটুট রয়েছে। লাভিনিয়া বলেন, ডিএনএ হয়তো আমাদের পরিচয় বদলে দিয়েছে, কিন্তু আমাদের সম্পর্ক বদলাতে পারেনি। আমরা অলৌকিক কিছুর অংশ।
মিশেলের ভাষায়, ও আমার যমজ বোন। কোনও কিছুই এ সত্য বদলাতে পারবে না।
সবার দেশ/কেএম




























