ন্যাটো জোটে নতুন অস্বস্তি
জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ মে) পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বাড়তে থাকা মতপার্থক্যের মধ্যেই এ পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে জানান, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা চাহিদা, কৌশলগত বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এ সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম সম্পন্ন হতে পারে। যদিও সেনাদের কোথায় পুনরায় মোতায়েন করা হবে সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বর্তমানে জার্মানিতে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই দেশটি ইউরোপে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ন্যাটো জোটের সামরিক সমন্বয়, ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এবং পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার প্রভাব মোকাবিলায় জার্মানির ঘাঁটিগুলোকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।
তবে সম্প্রতি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নীতিগত দূরত্ব বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ঘিরে শান্তি আলোচনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জার্মানিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
সম্প্রতি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের ইরান যুদ্ধ বন্ধে চলমান শান্তি উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটনের আচরণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে এবং ইরান সরকার আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমান’ করছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে।
এর পরপরই ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে জার্মানিতে সামরিক উপস্থিতি কমানোর আলোচনা জোরালো হয়। কয়েক দিন আগে ট্রাম্প নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে ‘অবদান ও দায়বদ্ধতার ভারসাম্য’ না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক ব্যয় পুনর্বিবেচনা করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। এতে ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এবং ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























