লোডশেডিংয় ও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ
নবীনগরে মোমবাতি জ্বালিয়ে, কুমিল্লায় পানিতে দাঁড়িয়ে এসএসসি পরীক্ষা
চলমান লোডশেডিং, কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার দিন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জলাবদ্ধতার কারণে কোথাও মোমবাতির আলোয়, কোথাও চার্জার লাইট জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে হয়েছে। আবার কোনও কোনও কেন্দ্রে হাঁটু কিংবা কোমরসমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ও চাঁদপুরের মতলবসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
কুমিল্লায় পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে পরীক্ষা
কুমিল্লায় দেড় ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নগরীর পুলিশ লাইন, ঝাউতলা, রেসকোর্স ও শিক্ষা বোর্ড এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
নগরীর ঈশ্বর পাঠশালা স্কুলকেন্দ্রে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়লে অনেক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা পানিতে দাঁড়িয়ে উত্তরপত্র লিখছে। পরীক্ষা শেষে অনেককে হাঁটু ও কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করতে হয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে মোমবাতি ও চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই অতিবৃষ্টির কারণে কেন্দ্রের পুরোনো ভবনে পানি ঢুকে পড়ে। বাধ্য হয়ে পানিতে পা ডুবিয়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, গত ১৪ বছর উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
নবীনগরে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

উপজেলার ১১টি কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ৪৭৪ জন পরীক্ষার্থী এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র লিখতে হিমশিম খায়।
পরীক্ষাকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, অস্বস্তিকর পরিবেশে অনেক শিক্ষার্থী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়।
মতলবে ৯ কেন্দ্রে বিদ্যুৎহীন পরীক্ষা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় নয়টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বাগানবাড়ি আইডিয়াল একাডেমিসহ মোট নয়টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যুৎ ছিলো না।
দশানী মোহনপুর কেন্দ্রের একাধিক কক্ষ পরিদর্শক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার সময় বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাব কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির পরিচয়।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ঝড়ের সময় বড় গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে এবং কয়েকটি স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ফলে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি।
সবার দেশ/কেএম




























