Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৯, ২ মে ২০২৬

আপডেট: ১২:২৯, ২ মে ২০২৬

বদলাতে পারে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি

ইরানের জন্য স্থলপথ খুলে দিলো পাকিস্তান

ইরানের জন্য স্থলপথ খুলে দিলো পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধের মধ্যেই পাকিস্তান ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থলবাণিজ্য পথ খুলে দিয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে পণ্য পরিবহন ও ট্রানজিট সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।

বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত শুধু দুই দেশের অর্থনীতির জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন ঘোষিত রুটগুলো পাকিস্তানের করাচি বন্দর, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদর বন্দরকে ইরান সীমান্তের গাব্দ ও তাফতান ক্রসিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এর মধ্যে গোয়াদর-গাব্দ করিডোরকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পথে ইরান সীমান্তে পৌঁছাতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। অথচ করাচি থেকে একই গন্তব্যে পৌঁছাতে আগে সময় লাগতো ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা।

নতুন এ রুট চালুর ফলে পরিবহন ব্যয় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ করিডোর পাকিস্তানকে আফগানিস্তানের ওপর নির্ভরতা কমাতেও সহায়তা করবে। গত বছরের অক্টোবর থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতির দিকে যায়। সীমান্ত সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে তোরখাম ও চামান সীমান্ত এখন আর পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য রুট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইফতিখার ফিরদৌস মনে করেন, নতুন করিডোর পাকিস্তানকে পশ্চিমমুখী বাণিজ্যে আফগানিস্তানকে কার্যত পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে। তার মতে, এর মাধ্যমে পাকিস্তান পশ্চিম এশিয়ায় চীন-সমর্থিত বাণিজ্য রুটগুলোর একটি প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবে।

তবে সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। কারণ বেলুচিস্তান ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আঞ্চলিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকেও পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের নতুন স্থলবাণিজ্য রুট দুই দেশের অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এ সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র যে কৌশল অনুসরণ করছে, পাকিস্তানের এ উদ্যোগ তা আংশিকভাবে দুর্বল করতে পারে।

একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদ-এর মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার ওপরও এই নতুন বাণিজ্যিক অবস্থানের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, তেলের বাজার, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্ত নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

নিজ নামে স্কুলের নামকরণ বন্ধে শাহে আলমের চিঠি
চীনা জে-১০সিই কিনছে বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন ভারত
আওয়ামী লীগ এখন রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক: আসিফ মাহমুদ
বিতর্কের মুখে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম বদলানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিন পাচ্ছে: নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী
কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
ফিফার পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে মেসি, বিশ্বকাপে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক
ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এখন আরও দুর্বল: ওবামা
পুলিশের পোশাকে ফের পরিবর্তন
পুরোনো ভিডিও দিয়ে নোয়াখালীতে মিছিলের গুজব ছড়াচ্ছে আ.লীগ: পুলিশ
ভিভাটেক ২০২৬: দশক পূর্তির উৎসবে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির রূপরেখা
নাইজারের বিমানবন্দরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, নিহত ৩৫
যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের গাড়িতে গুলি, নিহত ১
ডেভিডের হ্যাটট্রিকে কাতারকে গুঁড়িয়ে দিলো কানাডা
শান্তিচুক্তির জন্য মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প: মোজতবা খামেনি