দুই দফা ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি নারীর, স্থগিত মৃত্যুদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এ বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর বিল লি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইককে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার পরও তার মৃত্যু না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটলো, তা খতিয়ে দেখতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশও দিয়েছেন গভর্নর।
স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। কর্মকর্তারা তাকে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেন। কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার পরও তিনি জীবিত ছিলেন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া হয়। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিলো।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ডোজ দেয়ার পরও পাইক জীবিত থাকায় দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়। এ সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষের পর্দা দুইবার বন্ধ করা হয়। দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার পরও পাইকের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিলো। একপর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরও সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।
পাইকের আইনজীবীরা পরে জরুরি ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিতের আবেদন করেন। আদালতে দেয়া আবেদনে তারা জানান, পাইক অচেতন হয়ে পড়লেও তার হৃদস্পন্দন চলছিলো এবং তাকে নাক ডাকতে শোনা যাচ্ছিলো। তাদের দাবি, এ অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া অপ্রয়োজনীয় কষ্টের কারণ হতে পারে।
৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চলছিলো। বুধবার সকালে একটি আপিল আদালত সাময়িকভাবে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে। এরপরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পাইককে ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিলো ১৮ বছর। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে পাইক স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন। তারা একই কর্মপ্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিচিত হয়েছিলেন। শিপের বয়স তখন ১৭ বছর হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের আইনজীবীরা তার বয়স, শৈশবের নির্যাতন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ইতিহাস বিবেচনার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে টেনেসির গভর্নর বিল লি তাকে ক্ষমা করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বর্তমান প্রটোকল অনুযায়ী, প্রথম দফায় দেয়া ওষুধে বন্দির মৃত্যু না হলে দ্বিতীয় সেটের ওষুধ দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার পরও বন্দি জীবিত থাকলে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে বিষয়ে প্রটোকলে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। টেনেসি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা অঙ্গরাজ্যের অনুমোদিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছে।
টেনেসি ২০২৪ সালে তিন ধরনের ওষুধের পরিবর্তে একক ওষুধ পেন্টোবারবিটাল ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি চালু করে। এর আগে ওষুধের মান ও প্রস্তুতি নিয়ে জটিলতার কারণে অঙ্গরাজ্যটিতে আরেকটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়েছিলো। ক্রিস্টা পাইকের ক্ষেত্রে দুই দফা ওষুধ দেয়ার পরও মৃত্যু না হওয়া যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা বলে মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর গভর্নর বিল লি বলেন, ঠিক কী ঘটেছিলো তা নির্ধারণ করতে তিনি একটি সমন্বিত তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এ বছর টেনেসিতে নির্ধারিত আরেকটি মৃত্যুদণ্ডও এখন কার্যকর করা হবে না। ফলে পাইকের ঘটনায় শুধু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াই থেমে থাকেনি, অঙ্গরাজ্যটির বাকি ২০২৬ সালের মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























