বিশ্ব গণমাধ্যমে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী মাফিয়া হাসিনার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে ছাপা হয়েছে। বিবিসি, আল-জাজিরা, রয়টার্স, এএফপি, এপি, ডয়েচে ভেলে সহ বহু আন্তর্জাতিক নিউজ সংস্থা এবং ভারত ও প্রতিবেশী দেশের গণমাধ্যম এ খবর সরাসরি সম্প্রচার করেছে।
আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ বিস্তারিতভাবে আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, রায়ের প্রভাবে দেশে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। রায়ের আগে আদালতচত্বরে আনন্দের হিল্লোলের কথাও তারা উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার ছেলে জয়ের সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করেছে, যেখানে তিনি সতর্ক করেছেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ব্যাহত হলে সহিংসতা মারাত্মক আকার নিতে পারে।
রুশ গণমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এ রায় আসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহতদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে।
ডয়েচে ভেলে তাদের প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরেছে। কামাল বলেছেন, যে আদালত তাদের সাজা দিয়েছে সেটি ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ এবং ভারতের দিক থেকে আসা চাপ তাকে প্রভাবিত করবে না।
এএফপি জানিয়েছে, বিচারক গোলাম মর্তুজা মজুমদারের দেয়া টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রায়ের বিভিন্ন অংশের মাধ্যমে রায় বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, এ রায়ের ফলে হাসিনার রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এপি নিউজ নিরাপত্তা জোরদার এবং ভারতের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ও তুলে ধরেছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন, জিও নিউজ নির্বাচনের আগে এ রায় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যেমন বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর ভারতে চলে যাওয়া, সেখানে অবস্থান ও পরে বাংলাদেশে ফেরার ঘটনা তুলে ধরেছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম যেমন এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার, হিন্দুস্তান টাইমস এবং দ্য হিন্দু এ রায়ের খবর গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করেছে। এছাড়া নেপালের কাঠমান্ডু পোস্ট, শ্রীলঙ্কার ডেইলি মিররসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর গণমাধ্যমেও প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি সরকারপ্রধানের মৃত্যুদণ্ডের খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
অনেক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের মতও প্রকাশিত হয়েছে, যারা বাংলাদেশের সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সবার দেশ/কেএম




























