Sobar Desh | সবার দেশ জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:২১, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০১:২২, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

পশু জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জকসুর বিক্ষোভ

পশু জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জকসুর বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়ে জারি করা বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়মিত খাবারের তালিকায় গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করা এবং সব ধর্মের শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বর থেকে জকসুর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ শেষে রফিক ভবনের নিচে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জকসুর নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তির সমালোচনা করেন এবং তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশে জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল দপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তি দেখে তারা মর্মাহত হয়েছেন। তার প্রশ্ন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কীভাবে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা দিতে পারে।

তিনি প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় সংস্কৃতির ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তির পেছনে সাম্প্রদায়িক প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সেটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশে জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্দেশে বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশাসনকে অবিলম্বে বিজ্ঞপ্তি বাতিল করতে হবে। আগামী শুক্রবার জুমার নামাজের পর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গরুভোজের আয়োজন করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। ওই আয়োজনে উপাচার্যকে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান মাসুদ রানা।

তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের সীমানার মধ্যে গরুসহ কোনও পশু জবাই করা যাবে না—এমন নির্দেশনা দিয়ে প্রশাসন মুসলিম শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত করেছে।

মাসুদ রানা আরও দাবি করেন, এর আগেও ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনও উদ্যোগ নেয়া হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সমাবেশে জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জনসমক্ষে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হলেও ক্যাম্পাসে পশু জবাই বন্ধের নির্দেশনা দিতে তারা তৎপর হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা ও ক্যান্টিনে মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অথচ পশু জবাই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হচ্ছে। এ ধরনের সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে শিক্ষার্থীদের একটি ব্যাচের নৈশভোজের আয়োজন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিয়াজুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, ওই আয়োজনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টি করেছেন এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় গরুর মাংস নিয়মিত খাবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান জকসুর ভিপি। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের খাদ্যচাহিদা ও পছন্দের প্রতি সম্মান জানিয়ে ক্যান্টিনের মেনুতে গরুর মাংস রাখতে হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ধর্মীয় উৎসবের জন্য বরাদ্দ বণ্টনে শিক্ষার্থীদের ধর্মভিত্তিক আনুপাতিক হার বিবেচনায় নিতে হবে।

সমাবেশ থেকে জকসুর পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে প্রশাসনের দুঃখ প্রকাশ এবং বিজ্ঞপ্তি জারির পেছনে সংশ্লিষ্টদের কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিলো কি না, তা খতিয়ে দেখা; গত সোমবার মুক্তমঞ্চের সামনে শিক্ষার্থীদের নৈশভোজের আয়োজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক উসকানিতে রূপ দেয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া; শিক্ষার্থীদের খাদ্যচাহিদা ও পছন্দের প্রতি সম্মান রেখে ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের তালিকায় গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে ধর্মীয় বৈষম্য ও বিদ্বেষ দূর করে সম্প্রীতি, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া।

এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের স্বাক্ষরে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে যেকোনও ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছিলো। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে জকসুর বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রায় একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতর থেকে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। ফলে বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার, প্রশাসনের দুঃখ প্রকাশ এবং ক্যাম্পাসে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও খাদ্যপছন্দের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।

জকসুর নেতারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী কর্মসূচি নেয়া হবে। তবে প্রশাসনের দুঃখ প্রকাশের পর বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস
জুলাই জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১
দল হিসেবে আ.লীগের বিচারে তদন্ত চলছে: প্রসিকিউটর তামিম
কমিটি নিয়ে বিরোধ, জামায়াতের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ
রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংসাবশেষে আহত ১
পশু জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জকসুর বিক্ষোভ
ধূমপান করতে হাত কাঁপছিলো, লজ্জা লাগছিলো: বিদ্যা
এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার
অসুস্থতার কারণে ক্যাম্পাস ছেড়েছি,সুস্থ হয়েই ফিরবো: চুয়েট ভিসি
বাংলাদেশের তরুণরা আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা
টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে: ফায়ার সার্ভিস
টঙ্গীর আগুন নিয়ন্ত্রণে ২১ ইউনিটের সঙ্গে সেনাবাহিনী-বিজিবি
১৬ ইউনিটেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি ওষুধ কারখানার আগুন
টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট
ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব