Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৩০, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ব্যাংকিং খাতে ‘লুটেরাদের পুনর্বাসন’ হচ্ছে: টিআইবি

ব্যাংকিং খাতে ‘লুটেরাদের পুনর্বাসন’ হচ্ছে: টিআইবি
ফাইল ছবি

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬–এর নতুন বিধান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, এ আইনের মাধ্যমে দুর্বল ও একীভূত হওয়া ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশের ব্যাংকিং খাত পুনরায় দুর্নীতি ও লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে।

সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক  ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার নতুন আইনের ১৮(ক) ধারা যুক্ত করে এমন একটি পথ খুলে দিয়েছে, যার ফলে অতীতে ব্যাংক খাতের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগুলো কোনও জবাবদিহিতা ছাড়াই আবার মালিকানায় ফিরে আসতে পারবে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা ছিলো—ব্যাংক ধস বা বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তি অর্থ ফেরত দিলেও মালিকানায় ফিরতে পারবে না। কিন্তু নতুন আইনে সে অবস্থান বদলে দেয়া হয়েছে। টিআইবির ভাষায়, এটি শুধু দুর্নীতিবান্ধব নয়, বরং ‘লুটেরাদের পুরস্কৃত করার’ শামিল।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন মানেই ব্যাংক খাতে ক্ষমতার অপব্যবহারের অবসান নয়। বরং নতুন এ সিদ্ধান্ত প্রমাণ করছে, নীতিদখলের পালাবদলের মাধ্যমে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীগুলোর পুনর্বাসনের পথই সুগম করা হচ্ছে।

টিআইবির প্রশ্ন, যেসব ব্যক্তি অতীতে ব্যাংক খাত লুটপাটের ‘পাইওনিয়ার’ হিসেবে চিহ্নিত, তারা কীভাবে আবার একই ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠেন? সংস্থাটি বিশেষভাবে সমালোচনা করেছে এ বিধানকে, যেখানে পুনরায় মালিকানা পেতে নির্ধারিত অর্থের মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ জমা দিলেই হবে, বাকি ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ দুই বছরে ১০ শতাংশ সুদসহ পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ পুরোনো মালিকদের ওপর নতুন মূলধন যোগান, বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণ, আমানতকারীদের দায় শোধ, সরকারের কর পরিশোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার যে শর্ত আরোপ করা হয়েছে, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

টিআইবি আশঙ্কা করছে, ঘোষিত শর্ত পূরণের নামে আবারও ঋণ আদায় ব্যর্থতা, ঋণখেলাপি সংস্কৃতি এবং ব্যাংকিং খাতে গভীরতর দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতে পারে—যার শেষ বোঝা বইতে হবে সাধারণ জনগণকেই।

সংস্থাটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ব্যাংক সচল রাখা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার নামে এমন কোনও আইন যেন কার্যকর না হয়, যা শেষ পর্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষায় ব্যবহৃত হয়। টিআইবির মতে, এ আইন দেশের ব্যাংকিং সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং তা পুনর্বিবেচনা জরুরি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

হরমুজে ইরানের ‘ডলফিন’ সাবমেরিন মোতায়েন
হাসিনার পরামর্শে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মমতাকে হারানো হয়েছে: কর্নেল অলি
পুলিশের জন্য ওভারটাইম ভাতা ও বিশেষ পদোন্নতির পরিকল্পনা
হাসিনার দোসরদের ‘দখলচেষ্টা’, সময় টিভি দিয়ে শুরু
নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল ইসরায়েল
হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত বেড়ে ৬,৮১৯
গাড়িতে গুগলের জেমিনি এআই, স্মার্ট ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা
ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় জ্বলছে পশ্চিমবঙ্গ
শার্শায় যুবক হত্যার ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিকাসহ আটক ৪
শুভেন্দু চাইলে হাসিনাকে বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দিতে পারেন: আসিফ মাহমুদ
তামাক করকাঠামো সংস্কারে বাড়বে রাজস্ব, দাবি বিশেষজ্ঞদের
সংকট কাটছে না কারিনা কায়সারের, বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা পরিবারের
স্থানীয় সরকার ভোটে মাঠে নামছে এনসিপি, ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা
হামে প্রাণহানি ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৫০,৪৯২ বাংলাদেশি হজযাত্রী
তাহিরপুর ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা, ড্রেজার মালিকের কারাদন্ড
মেয়ের চিকিৎসায় শেষ সম্বল জমিও বিক্রি, অসহায় কায়সার হামিদ
বরগুনার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল, ঝুঁকিতে ২৫ হাজার মানুষ