ক্যারিয়ারের শুরুতেই শুনেছিলেন, ‘নাচে তুমি জিরো’
বলিউডের পর্দায় ক্যাটরিনা কাইফের নাচ মানেই আলাদা এক আকর্ষণ। তার নাচের ছন্দে মুগ্ধ হয়েছেন কোটি দর্শক। ‘শিলা কি জওয়ানি’, ‘চিকনি চামেলি’ কিংবা ‘কালা চশমা’—একাধিক জনপ্রিয় গানে নিজের নাচের দক্ষতায় জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের হৃদয়ে। অথচ ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নাচ নিয়েই কঠিন কটূক্তি শুনতে হয়েছিলো এ তারকাকে।
এমনকি এক জ্যেষ্ঠ কোরিওগ্রাফার একসময় ক্যাটরিনাকে সরাসরি বলেছিলেন,
তুমি নাচে একদম জিরো। তোমার নাচ ছেড়ে দেয়া উচিত।
সে অপমানই পরে তার কঠোর পরিশ্রমের অন্যতম অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলো বলে মনে করছেন কোরিওগ্রাফার বস্কো মার্টিস।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে বলিউডের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার জুটি বস্কো-সিজার এবং ফারাহ খানের আড্ডায় উঠে আসে ক্যাটরিনার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের নানা অজানা গল্প। সেখানেই তার নাচের দক্ষতায় আমূল পরিবর্তনের পেছনের কঠিন সময়ের কথা জানান তারা।

আলোচনার একপর্যায়ে ২০১০ সালের আলোচিত সিনেমা ‘টিস মার খান’-এর ‘শিলা কি জওয়ানি’ গানের প্রসঙ্গ তোলেন ফারাহ খান। তার সঙ্গে ক্যাটরিনার প্রথম কাজের স্মৃতিও উঠে আসে আলোচনায়। ২০০৫ সালে ‘ম্যায়নে পেয়ার কিউ কিয়া’ সিনেমার ‘জাস্ট চিল’ গানে প্রথমবার ফারাহর কোরিওগ্রাফিতে কাজ করেন ক্যাটরিনা।
ফারাহ জানান, তখন ক্যাটরিনার নৃত্যশিল্পী হিসেবে বিশেষ কোনও পরিচিতি তৈরি হয়নি। পর্দায় তার উপস্থিতি আকর্ষণীয় হলেও নাচের দক্ষতায় তখনও অনেকটা পথ পাড়ি দেয়া বাকি ছিলো। ‘টাচ মি, টাচ মি’-এর মতো গানে দর্শকের নজর কাড়লেও নাচে নিজের সামর্থ্যের পুরোটা তখনও দেখাতে পারেননি তিনি।
সে প্রসঙ্গেই ক্যাটরিনার পরিশ্রমের গল্প তুলে ধরেন বস্কো মার্টিস। তিনি বলেন, ক্যাটরিনার ক্যারিয়ারে এমন অনেক গল্প রয়েছে, যেখানে তার নিরলস পরিশ্রম ও শেখার আগ্রহ স্পষ্ট। একসময় এক কোরিওগ্রাফার তাকে বলেছিলেন, তিনি নাচে ‘জিরো’ এবং তার নাচ ছেড়ে দেয়া উচিত।

বস্কোর ধারণা, সে তিক্ত মন্তব্য ক্যাটরিনার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিলো। অপমানকে দুর্বলতা হিসেবে না নিয়ে বরং নিজের সক্ষমতা প্রমাণের জেদে পরিণত করেছিলেন তিনি। এরপর নাচ শেখার ক্ষেত্রে আরও কঠোর পরিশ্রম করেন ক্যাটরিনা।
বস্কোর বক্তব্য শুনে ফারাহ খান অবশ্য ক্যাটরিনাকে কখনোই নাচে ‘জিরো’ মনে করেননি। তার মতে, শুরুর দিকে ক্যাটরিনার দক্ষতা হয়তো চার বা পাঁচের পর্যায়ে ছিলো। কিন্তু ‘শিলা কি জওয়ানি’ গানটির পর তিনি এক লাফে নয় বা দশের পর্যায়ে পৌঁছে যান।
আর সে গান যেন বদলে দেয় ক্যাটরিনার নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচয়। ‘শিলা কি জওয়ানি’র ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর একের পর এক হিট গানে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি। ‘চিকনি চামেলি’ থেকে ‘কালা চশমা’—তার নাচের আলাদা স্টাইল ও পর্দায় উপস্থিতি তাকে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ক্যাটরিনার এ যাত্রা তাই শুধু সাফল্যের গল্প নয়, সমালোচনাকে শক্তিতে পরিণত করারও গল্প। একসময় যে নাচ নিয়ে তাকে ‘জিরো’ বলা হয়েছিলো, সে নাচই পরবর্তীতে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় পরিচয়ে পরিণত হয়।

এদিকে ব্যক্তিগত জীবনেও গত দুই বছরে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছেন ক্যাটরিনা। মাতৃত্বের কারণে তিনি বর্তমানে অভিনয় থেকে কিছুটা বিরতিতে রয়েছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্বামী ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনার ঘর আলো করে আসে তাদের পুত্রসন্তান বিহান।
সন্তান জন্মের পর স্বাভাবিকভাবেই অভিনয় ও শুটিং থেকে কিছুটা দূরে রয়েছেন এ তারকা। ফলে ভক্তদের বড় পর্দায় তার নতুন কাজ দেখার অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে।
ক্যাটরিনাকে সর্বশেষ ২০২৪ সালে শ্রীরাম রাঘবনের থ্রিলার সিনেমা ‘মেরি ক্রিসমাস’-এ দেখা গেছে। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় সেতুপতি। সিনেমাটি মুক্তির পর সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসাও পেয়েছে। বর্তমানে নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে ছবিটি।
একসময় ‘নাচে তুমি জিরো’—এমন কটূক্তি শুনতে হলেও সময়ের সঙ্গে নিজের কঠোর পরিশ্রম দিয়ে সে ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করেছেন ক্যাটরিনা কাইফ। তার নাচের ক্যারিয়ার যেনো প্রমাণ করে, প্রতিভার চেয়েও অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে পরিশ্রম, জেদ আর নিজেকে প্রমাণ করার ইচ্ছা।
সূত্র: এনডিটিভি
সবার দেশ/কেএম




























