Sobar Desh | সবার দেশ খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:১২, ৩১ মার্চ ২০২৬

টিকাদানে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

হাম আতঙ্কে খুলনা, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ শিশু

হাম আতঙ্কে খুলনা, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ শিশু
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা বিভাগে হঠাৎ করেই বেড়েছে হাম-এর সংক্রমণ। প্রতিদিনই গায়ে ব্যথা, তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি ও লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে আসতে দেখা যাচ্ছে। যদিও পরিস্থিতি এখনো মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবুও চিকিৎসকরা এটিকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় অন্তত ৭৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অন্তত ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল মিলিয়ে বর্তমানে ৬৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের অধিকাংশই হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি। এছাড়া যশোরে ৬ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন এবং ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও মাগুরায় ২ জন করে শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্তদের বড় অংশই অল্পবয়সী শিশু। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী এবং ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। যেসব শিশু এখনো পূর্ণ টিকাদান পায়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রথমে জ্বর, সর্দি-কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি তিন শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের বয়স ৫ থেকে ৮ মাসের মধ্যে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা রুখশানা পারভীন বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ এবং নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা না থাকায় সাপোর্টিভ চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হয়।

এদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আইসোলেশন ইউনিট চালু থাকলেও শয্যা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা সীমিত। খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জটিল রোগীদের জন্য এনআইসিইউ সুবিধা না থাকাও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক মুজিবুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায়ও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব জেলা হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেক হাসপাতালে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এনআইসিইউ সংকট। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেশিরভাগ স্থানে এখনও এ সুবিধা নেই। বড় জেলাগুলোতে অন্তত এনআইসিইউ সাপোর্ট চালুর চেষ্টা চলছে, যাতে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখা জরুরি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
‘চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়, জবাবদিহি করতে হবে এমপিদের’
রিয়াদগামী ১০ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে হাজারো প্রবাসী
আত্মগোপনেই মারা গেলেন নিষিদ্ধ জঙ্গি আ.লীগ নেতা
নাটোরে চুরি হওয়া জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ উদ্ধার
সাদাকাত-ফারহানের ঝড়ে সিরিজ জয় পাকিস্তানের
আবারও কেঁপে উঠলো রিয়াদ বিমানবন্দর, টার্মিনালে আগুন
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছাড়ালো, আক্রান্ত লাখের পথে
দুর্ঘটনার পর কেমন আছেন নুসরাত? সূর্যাস্তের ছবিতে আবেগঘন বার্তা
প্রজ্ঞার জরিপ: চার স্তরে ১২ দামে সিগারেট, ব্র্যান্ড বদলের সুযোগ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের বিশ্বরেকর্ড, সোবহানার সেঞ্চুরি
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার ৪
রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ, বাংলাদেশের ৫ ফ্লাইট বাতিল
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, ঢাকার তীব্র নিন্দা
মোহাম্মদপুরে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ, তীব্র যানজট
পোশাক রফতানিতে তিন মাসে আয় ১,০৫৮ কোটি ডলার