Sobar Desh | সবার দেশ ফজলে রাব্বি, বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৫৭, ২০ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২৩:৫৮, ২০ আগস্ট ২০২৬

এক বিদ্যালয়ে দুই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, দ্বন্দ্বে ব্যাহত পাঠদান

এক বিদ্যালয়ে দুই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, দ্বন্দ্বে ব্যাহত পাঠদান
ছবি: সবার দেশ

নাটোরের বাগাতিপাড়ার ভিতরভাগ বাইআপ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধে একই সময়ে দুজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে ১৩০ শিক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত উপস্থিত থাকছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খাতুন ১৯৯৪ সালের ২ জুলাই যোগ দিয়ে চলতি বছরের ৩০ মে অবসরে যান। এরপর সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে তার নিয়োগ নিয়ে ২০১৭ সালের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০২ সালে রফিকুল ইসলামের নিয়োগের সময় তার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিলো না। ফলে তার আবেদন বাতিলযোগ্য হলেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়, যা বিধিসম্মত হয়নি। একই সঙ্গে ২০০২ সালের ১ জুন থেকে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রফিকুল ইসলাম বেতন হিসেবে ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৩৮ টাকা গ্রহণ করেন, যা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রফিকুল ইসলামের নিয়োগের পেছনে তৎকালীন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নাটোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত আমির মো. আব্দুল আজিজের ভূমিকা ছিলো বলে অভিযোগ করেছেন বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মো. মাহাতাব হোসেন। তার দাবি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন কমিটির মাধ্যমে রফিকুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে এডহক কমিটির সিদ্ধান্তে সিনিয়র শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তৎকালীন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নাটোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত আমির মো. আব্দুল আজিজ মুঠোফোনে বলেন, ঘটনাটি অনেকদিন আগের হওয়ায় তার ভালোভাবে মনে নেই। তবে কোনও অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

যোগ্যতা না থাকার পরেও কিভাবে নিয়োগ পেলেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা বোর্ড আছে, আমি তাদের কাছে জবাব দেবো। সাংবাদিকের কাছে কিছু বলবো না। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমাকে এ চেয়ারে বসিয়ে গেছেন।

এদিকে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খাতুনের দাবি ২০০১ সালে বিদ্যালয়ের পুকুর লিজের ৯৮ হাজার ১ টাকা বিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ। এবিষয়েও তদন্তের দাবি জানান তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  (অ.দা.) মো. ওয়াজেদ আলী মৃধা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনও নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী হেলালী বলেন, ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল নিয়ে দুই পক্ষের প্রতিযোগিতার বিষয়টি শুনেছি। শিক্ষা অফিস তদন্ত করবে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

পূজার ছুটিতেও চালু থাকবে পোশাক কারখানা
ককরোচ পার্টির পক্ষে রায় দিলো দিল্লি হাইকোর্ট
হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন ও দামি সুগন্ধি
সাজেক পর্যটকদের জন্য উম্মুক্ত, অবরোধ স্থগিত
হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্য
ক্ষমা চেয়েও রেহাই নেই, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না ৮ শ্রেণির পরিবার
ডেঙ্গুতে এক দিনে ১০ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৩
স্কুলে মারামারি: স্বামী-স্ত্রী দুই শিক্ষককে বদলির সুপারিশ
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৪
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
‘যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে’- দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ
বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ