Sobar Desh | সবার দেশ রংপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:০৮, ২৭ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৭:০৮, ২৭ আগস্ট ২০২৬

রংপুরে চার হত্যা: 

ধর্ষণের আলামত মেলেনি, শ্বাসরোধেই চারজনকে হত্যা

ধর্ষণের আলামত মেলেনি, শ্বাসরোধেই চারজনকে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে প্রমাণ মিলেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই যুবককে অভিযুক্ত করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তবে নিহত দুই নারীকে ধর্ষণের কোনও আলামত ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

পুলিশ কমিশনার বলেন, মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত দুই নারী—আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষাতেও ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মৃতদেহে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন ধরনের তরল পদার্থ বের হতে পারে। ঘটনাস্থলে একজন ডোম বীর্য পাওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে ময়নাতদন্ত ও পরীক্ষার পর সেটি মৃতদেহ থেকে নিঃসৃত পদার্থ ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

শ্মশানে আশ্রয় নিয়েছিলো মুগ্ধ

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস দখিগঞ্জ শ্মশানে আশ্রয় নিয়েছিলো বলে জানিয়েছেন শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাস। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বিদ্যুৎ দাস এ তথ্য জানিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, মুগ্ধ দাস শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের কাছে গিয়ে পানি চেয়েছিলো। সে সময় মুগ্ধ তাকে জানায়, সে ও সিদ্ধার্থ স্যারসহ চারজনকে হত্যা করেছে।

তদন্তকারীরা এখন হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক সেবনে বাধা দেয়ার বিষয়টির পাশাপাশি অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিলো কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।

জমি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ক্ষোভ?

এদিকে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের সঙ্গে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের পুরোনো জমি লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, সিদ্ধার্থের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে গণপতি চক্রবর্তী একটি জমি কিনে সেখানে বাড়ি করেছিলেন। ওই জমি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছিলো—এমন আলোচনা ছিলো। জমি বিক্রির অর্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন না হওয়া নিয়েও ক্ষোভ থাকতে পারে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

তিনি বলেন, জমি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ছিলো কি না, বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সব কারণ সামনে রেখে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করছেন। ময়নাতদন্তের ফল, আদালতে দেয়া জবানবন্দি এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
মুচলেকা দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট ভিসি
ড. ইউনূসের হেনস্তার দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: নাহিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, সরকারের নিন্দা
ড. ইউনূস ভালো আছেন, কোনও ক্ষতি হয়নি: লামিয়া মোরশেদ
মোদিবিরোধী আন্দোলনে বাজলো হাসিনাবিরোধী প্রতিবাদী গান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
ওয়ান ব্যাংকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ
বিএনপি’র সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই
ইরানে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড
চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ১১ জন
নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা