হলি আর্টিজান মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার (১৭ জুন) এ রায় প্রকাশ করা হয়।
২০১৬ সালের ১ জুলাই ঈদের এক সপ্তাহ আগে রাতে পিস্তল, সাবমেশিনগান ও ধারালো অস্ত্র হাতে পাঁচ তরুণ জঙ্গি ঢুকে পড়ে রাজধানীর গুলশানের অভিজাত রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজানে। সেখানে তারা ১৭ বিদেশিসহ মোট ২০ জনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা জীবন দেন। পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়।
ঘটনার তিন বছর পর ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নব্য জেএমবির সাত সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরও কয়েকটি ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।
পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারায় হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় এবং আসামিরাও আপিল করেন। বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর তাদের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। সেই পূর্ণাঙ্গ ২২৯ পৃষ্ঠার রায়টি গতকাল প্রকাশিত হয়। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান এবং এতে সম্মতি দিয়েছেন বিচারপতি সহিদুল করিম।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন:
- রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান
- মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী
- আসলাম হোসেন ওরফে র্যাশ
- হাদিসুর রহমান
- আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ
- মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন
- শরিফুল ইসলাম খালেদ
রায়ে বলা হয়, নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) একটি অতি উগ্র অংশ ‘নব্য জেএমবি’ নাম ধারণ করে এ হামলা চালায়। এতে সরাসরি অংশ নিয়েছিলো পাঁচ জঙ্গি—রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল এবং খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। রায়ে বলা হয়, যদি এদের কেউ জীবিত থাকত, তাহলে তাদেরও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতো।
এ মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট, ফরেনসিক, ব্যালিস্টিক ও ইমিগ্রেশন রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে হাইকোর্ট এই রায় দেয়। বিচারকদের মতে, হামলার পরিকল্পনা, অস্ত্র সংগ্রহ, অর্থায়ন ও সহযোগিতার মাধ্যমে আসামিরা অপরাধ সংঘটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
হলি আর্টিজান হামলা শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিলো। এ রায় বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বাস্তবায়নে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























