Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩৬, ১৬ আগস্ট ২০২৬

নানকের মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন আসাদুজ্জামান কামাল

পলাতক হাসিনা ও আ.লীগ নেতাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে

পলাতক হাসিনা ও আ.লীগ নেতাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও পলাতক মন্ত্রী-নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে সে অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে এসেছে।

কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে নানক দাবি করেন, শেখ হাসিনার আগেই তিনি দেশে ফিরবেন এবং দেশে ফিরে প্রতিশোধ নেবেন। তার এমন বক্তব্য ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

নানকের বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নানক চাইলেই দেশে ফেরার কথা বলতে পারলেও তার নিজের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা রয়েছে এবং তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত।

কামাল প্রশ্ন তোলেন, একই ধরনের কঠোর আইনি পরিস্থিতি নানকের বিরুদ্ধে থাকলে তিনি কি এভাবে প্রকাশ্যে ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে পারতেন? তার ভাষ্য, দেশে ফেরার বিষয়ে নানকের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার নিজের বাস্তবতার কোনও মিল নেই।

ভারতে অবস্থানরত সাবেক এ মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, তার চলাফেরা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ রয়েছে। এ কারণে প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সতর্ক থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সামান্য কোনো বক্তব্যের কারণে তাকে আটক করে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

দীর্ঘদিনের প্রবাসজীবনে মানসিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা ও অর্থকষ্টের কথাও তুলে ধরেছেন কামাল। তার অভিযোগ, দিল্লিতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের নেতাদের দুর্দিনে প্রত্যাশিতভাবে খোঁজখবর নিচ্ছেন না। একসময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেতারা বর্তমানে বিচ্ছিন্ন ও অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

১৫ আগস্টকে ঘিরে তার হতাশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে। একসময় রাষ্ট্রক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত কামালের অভিযোগ, বর্তমানে তার সঙ্গে দলের নেতাদের যোগাযোগও অনেক কমে গেছে। এমনকি ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে প্রকাশ্য কোনও কর্মসূচি আয়োজনের মতো পরিবেশও তৈরি হয়নি।

শুধু আসাদুজ্জামান খান কামাল নন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় কর্মকাণ্ড থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে কোলকাতা কিংবা অন্য কোথাও তার পক্ষ থেকে বড় কোনও প্রকাশ্য কর্মসূচি দেখা যায়নি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় দলটির সাংগঠনিক কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়েছে। ভারতে অবস্থানরত নেতাদের মধ্যেও একসঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা বা সমন্বয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে কার যোগাযোগ বেশি বা কারা তার আস্থাভাজন—এ নিয়েও দলের ভেতরে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

দলের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অনেকেই বর্তমানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। দেশে থাকা নেতাকর্মীদের একটি অংশ মামলা, গ্রেফতার ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। অন্যদিকে বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের কেউ কেউ অর্থনৈতিক সংকট, অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে তাদের ঘনিষ্ঠদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সময়ে খবর এসেছে।

এ অবস্থায় নানকের মতো নেতাদের প্রকাশ্য বক্তব্য দলের অন্য নেতাদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশে ফেরার ঘোষণা বা রাজনৈতিক প্রতিশোধের মতো বক্তব্যকে অনেকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

তবে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ এসব বিরোধ নিয়ে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে নানকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আসাদুজ্জামান খান কামালের কথিত ক্ষোভ এবং পলাতক নেতাদের মধ্যে দূরত্বের বিষয়টি কতটা সাংগঠনিক বিভাজনে রূপ নিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট—দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন আগের মতো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে নেই। দেশে রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত এবং বিদেশে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা নেতাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ কৌশল, নেতৃত্বের ভূমিকা ও পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নে মতপার্থক্য ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গ্লোবাল বারিস্তা ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের উদ্যোগ
অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ইতিহাস লিখলো বাংলাদেশ
আত্মহত্যার ঝুঁকিতে ৫ হাজার মার্কিন সেনা!
৯৮ শতাংশ গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিলো: চিফ হুইপ
আমির হামজার গাড়িতে হামলা, জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষ
ভারতীয় মাদকসহ রাবিতে ছাত্রদল নেতা আটক
পেছনে বসে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, সামনে বলছে ‘বিদ্যুৎ চাই’: প্রধানমন্ত্রী
মাকে জবাই করে হত্যা, ছেলে-শাশুড়ি গ্রেফতার
ইরান যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধাক্কা
দেশনেত্রীর ত্যাগ ও প্রেরণা বিএনপিকে পথ দেখায়: মির্জা ফখরুল
পলাতক হাসিনা ও আ.লীগ নেতাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে
বিরোধী দলকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন হাসনাত
সাভারে ফোনে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে প্রাণনাশের হুমকি
প্যারিসে এফবিজেএ’র ‘জুলাই ডায়লগ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত
মিরপুর বাংলা স্কুলে অঙ্গীকার ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিচারিক অবিচারের দীর্ঘ অধ্যায়
প্রথম জন্মদিনে অনুপস্থিত বেগম খালেদা জিয়া, স্মরণে দেশবাসী
ইতালিতে স্বপ্নের সংসারে নৃশংস পরিণতি, স্ত্রী-কন্যাসহ বাবুলের দাফন