Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৫০, ১৩ আগস্ট ২০২৬

সংকট তৈরি করে জ্বালানি খাত কোনও গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ 

পরিকল্পনার ব্যর্থতায় অন্ধকারে জ্বালানি খাত: নাহিদ ইসলাম

পরিকল্পনার ব্যর্থতায় অন্ধকারে জ্বালানি খাত: নাহিদ ইসলাম
ফাইল ছবি

পরিকল্পনার ঘাটতি, সময়মতো জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত না নেয়া এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যকরভাবে কাজ করতে না দেয়ার কারণেই দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, কৃত্রিম বা ব্যবস্থাপনাজনিত এ সংকটকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ধীরে ধীরে বেসরকারি ও প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে ১৫ দফা প্রস্তাব দেন।

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার বাস্তবে কয়েকটি প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার পথে এগোচ্ছে। তার ভাষ্য, নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি ‘লুটপাট নয়, উৎপাদন; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা’ এবং একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ডে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে আগের সরকারের গৃহীত বিভিন্ন বিতর্কিত আইন, বিশেষ করে দায়মুক্তির বিধান বাতিলের প্রতিশ্রুতি ছিলো বিএনপির। কিন্তু এখন সরকার এমন নীতির দিকে এগোচ্ছে, যা অতীতে সমালোচিত কুইক রেন্টাল, আইপিপি ও ক্যাপাসিটি চার্জনির্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

বেসরকারিকরণের অভিযোগ

নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারিকরণের নামে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তার দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে নিজস্ব ব্যবস্থায় বাজারজাতের অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) মাত্র চার দিনের মধ্যে ‘বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া জমা দেয়ার নির্দেশ দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলামের প্রশ্ন, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাববিস্তারকারী একটি জ্বালানি নীতিমালা তৈরির জন্য মাত্র চার দিন সময় কেনো দেয়া হলো?

তার অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানানোর কারণেই বিপিসির চেয়ারম্যানকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অংশীজনদের মতামত নেয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে সময়সীমা এতটাই সীমিত রাখা হয়েছে যে অর্থবহ পর্যালোচনার সুযোগই তৈরি হয়নি।

৪২ দিন থেকে ১০ দিন

জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ১০ দিনে নামিয়ে এনেছে।

তার আশঙ্কা, এত কম সময়সীমায় বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরা দরপত্রে অংশ নেয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ নাও পেতে পারেন। এতে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে, দরদাতার সংখ্যা সীমিত হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সিন্ডিকেট বা বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, অংশীজনদের মতামত নেয়াই যদি সরকারের উদ্দেশ্য হয়, তাহলে নীতিমালা তৈরিতে চার দিনের সময়সীমা কেনো? তদন্ত কমিটিকে কেনো মাত্র দুই দিন সময় দেয়া হলো? আর বিপিসির চেয়ারম্যানকে সরানোর ক্ষেত্রে এত তাড়াহুড়োর কারণ কী?

‘ডলার আছে, নেই পরিকল্পনা’

জ্বালানি আমদানির জন্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই—এমন বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছেন নাহিদ ইসলাম।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার।

তিনি আরও বলেন, ১ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে প্রায় ৯১৫ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

নাহিদ ইসলামের ভাষায়, 

বাস্তবে ডলার আছে। নেই ক্রয়ের সময়সূচি। নেই সময়সূচিভিত্তিক ক্রয় পরিকল্পনা।

তার দাবি, বছরের প্রথম কয়েক মাস জ্বালানি আমদানি চললেও পরবর্তী সময়ে প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্রয় পরিকল্পনা সময়মতো অনুমোদন করা হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি এমন নয় যে বিপিসিকে জ্বালানি আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছিলো এবং প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়েছে। বরং বিপিসির প্রয়োজনীয় ক্রয় শিডিউলই সময়মতো অনুমোদন দেয়া হয়নি।

‘আগে সংকট, পরে বেসরকারিকরণ’

সরকারের নীতির মধ্যে একটি ধারাবাহিক কৌশল রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।

তার ভাষ্য, প্রথমে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে কাজ করতে দেয়া হবে না। এরপর ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা বা সংকট তৈরি হলে বলা হবে সরকারি প্রতিষ্ঠান অকার্যকর। তারপর সে সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে খাতটি বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেয়া হবে।

বিদ্যুৎ বিতরণ খাতেও একই ধরনের প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুতুড়ে বিল, সিস্টেম লস ও জালিয়াতির অভিযোগকে সামনে এনে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা বেসরকারিকরণের যুক্তি তৈরি করা হচ্ছে বলেও দাবি তার।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের দাবি

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশে ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ লোডশেডিং চলছে।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ আগস্ট রাত ১টায় দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিলো ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগে ৯ আগস্ট ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট এবং ৩ আগস্ট ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়।

তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরকার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও নাহিদ ইসলাম বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠেছিলো।

তার দাবি, পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসেই লোডশেডিং পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিলো। ফলে যুদ্ধকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে মহেশখালীর এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন এনসিপি আহ্বায়ক।

তিনি বলেন, ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর দৈনিক প্রায় ৫১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ৫ আগস্ট আংশিকভাবে সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়।

এ ঘটনায় স্বাধীন কারিগরি তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণে কোনও ত্রুটি ছিলো কি না, তা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে সে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে কি না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ মাত্র দুটি এলএনজি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল। এর একটিতে সমস্যা দেখা দিলে দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে না পারা দেশের দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

এলপিজির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সতর্কবার্তা

এলপিজি খাতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বেসরকারি আমদানিকারকদের হাতে খাতটি ছেড়ে দেয়ার পর সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

তার অভিযোগ, একই ধরনের নীতির মাধ্যমে এখন ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন আমদানির ক্ষেত্রেও বেসরকারি গোষ্ঠীকে বড় ভূমিকা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেচ, কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন এবং বাজারের প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামেই এর প্রভাব পড়ে।

‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিলো রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন’

জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, মানুষের ক্ষোভ শুধু একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ছিলো না; বরং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধেও ছিলো যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কয়েকটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থে নেয়া হতো।

তার দাবি, ব্যাংক লুট, বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম, অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ এবং জবাবদিহি এড়াতে দায়মুক্তি আইনের ব্যবহার ছিলো সে ব্যবস্থার অংশ।

তিনি বলেন, মানুষ শুধু শাসক পরিবর্তনের জন্য নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রত্যাশায়ও আন্দোলন করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে আবারও রাষ্ট্র কয়েকটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় চলে যাচ্ছে বলে তার অভিযোগ।

১৫ দফা প্রস্তাব

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় নাহিদ ইসলাম ১৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • বেসরকারিকরণের চলমান প্রক্রিয়া স্থগিত করে উন্মুক্ত অংশীজন আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
  • জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ১০ দিন থেকে আবার ৪২ দিনে ফিরিয়ে নেয়া।
  • বিপিসির সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের ক্রয় শিডিউল দ্রুত অনুমোদন।
  • পরবর্তী চার থেকে ছয়টি অর্থনৈতিক প্রান্তিকের জন্য স্বচ্ছ জ্বালানি ক্রয় ক্যালেন্ডার প্রকাশ।
  • মহেশখালীর এফএসআরইউ দুর্ঘটনার স্বাধীন কারিগরি তদন্ত এবং প্রতিবেদন প্রকাশ।
  • গ্যাস বরাদ্দে তদবিরের পরিবর্তে স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক অগ্রাধিকার ব্যবস্থা চালু।
  • জ্বালানি-সাশ্রয়ী, রপ্তানিমুখী ও শ্রমঘন শিল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া।
  • বিপিসির একচেটিয়া ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রতিযোগিতামূলক, স্বচ্ছ ও বহুপক্ষীয় কাঠামো তৈরি।
  • পরিশোধিত তেলের পরিবর্তে অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়ানো এবং নতুন রিফাইনারি স্থাপনে উৎসাহ।
  • ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শেষ করা।
  • ক্যাপাসিটি চার্জের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা এবং অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনকারী বিদ্যুৎকেন্দ্রের পেমেন্ট পুনর্বিবেচনা।
  • বিদ্যুৎ খাতে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক করা এবং সিস্টেম লস কমানোর কার্যকর উদ্যোগ।
  • এলপিজি খাতে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে মূল্য ফিরিয়ে আনা।
  • মহেশখালীর বাইরে তৃতীয় ও চতুর্থ এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন।
  • সৌরবিদ্যুতের ওপর শুল্ক কমিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দৃশ্যমান লক্ষ্য নির্ধারণ।

ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েও প্রশ্ন

বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম।

তার দাবি, কোনও কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছে। তার দেয়া হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৪৪ হাজার থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ চলে যাচ্ছে।

অন্যদিকে আইপিপিগুলোর কাছে পিডিবির বিপুল পরিমাণ বকেয়া রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, তার নিরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের প্রকৃত বিনিয়োগের চেয়ে বেশি অর্থ তুলে নিয়েছে, তাদের পেমেন্ট বন্ধ বা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

সৌরবিদ্যুতেই বড় সম্ভাবনা

নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।

এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ খাতকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি সোলার প্যানেল, কনভার্টার, ব্যাটারি ও সৌরবিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান।

নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি বড় অংশ সৌরবিদ্যুৎনির্ভর করার পাশাপাশি নেট মিটারিং ও ফিড-ইন ব্যবস্থার নীতিমালা আরও স্পষ্ট করার প্রস্তাব দেন তিনি।

বড় বাণিজ্যিক ও শিল্প ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন বাধ্যতামূলক করার কথাও বলেন এনসিপি আহ্বায়ক।

‘মাফিয়া তোষণের মূল্য আর নয়’

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত শুধু অর্থনৈতিক খাত নয়, এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ খাতে ভুল নীতির সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে।

তার ভাষায়, সরকারের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা, কোনও নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখা নয়।

আগের সরকার এ নীতি থেকে সরে গিয়েছিলো বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও যদি একই পথে এগোয়, তাহলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে সংকট আরও গভীর হবে।

নাহিদ ইসলামের ভাষায়, 

মাফিয়া তোষণের মূল্য বাংলাদেশ একবার দিয়েছে, আর নয়।

তিনি জানান, পরিকল্পনার ব্যর্থতা, জবাবদিহির অভাব এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীকেন্দ্রিক জ্বালানি নীতির বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টি অবস্থান নেবে এবং জনগণের স্বার্থে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানাবে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে তিন মনোনয়নপত্র জমা
রাষ্ট্রের দায়িত্বে অ্যানি; এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন!
মির্জা ফখরুলের বিদায়ে তিন পদে শূন্যতা, সম্ভাব্য উত্তরসূরি যারা
মির্জা ফখরুল বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
পরিকল্পনার ব্যর্থতায় অন্ধকারে জ্বালানি খাত: নাহিদ ইসলাম
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল আজ
গৃহকর্মীর প্রেমের বলি সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতি
তুরস্কে প্রশিক্ষণের সময় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
লোডশেডিংয়ে জনরোষ, পুলিশের নিরাপত্তা চাইলো পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি
বিএনপি জনগণের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে: পাটওয়ারী
শোকাহত মেসির পাশে রোনালদো, বললেন ‘শক্ত হও’
যশোর আবাসিক হোটেলে অভিযান, দুই নারীসহ ১০ জন আটক
ডাকসু নির্বাচনের তফসিল দ্রুত ঘোষণার দাবি শিবিরের
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ মার্কেট-শপিংমল
সাভারে বোমাসহ যুবক আটক, সিটিটিসির অভিযান