কৃষিতে নতুন দিগন্তের আশা
যশোরে ২৬ ফসলের ১২৯ জাতের উচ্চ ফলনশীল সবজির ক্রপশো
যতদূর চোখ যায়, সবুজের বিস্তার। মাচায় ঝুলছে বাহারি মিষ্টি কুমড়া—কোথাও বিশাল আকার, কোথাও মাঝারি, কোথাও ছোট। পাশের জমিতে সারি সারি লাউ, আকারে-গঠনে ভিন্নতা চোখে পড়ার মতো। আরেকটু এগোলেই বেগুনের ক্ষেত—দেশে প্রচলিত প্রায় সব জাতের বেগুন যেন একসাথেই ফলেছে এখানে। এমন বৈচিত্র্য আর ফলনের সমাহার দেখা গেছে যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের এক বিস্তীর্ণ মাঠে।
এখানে ২৬টি ফসলের ১২৯টি উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের সবজি চাষ করা হয়েছে। সবজির ভাণ্ডার খ্যাত যশোরে এ বাম্পার ফলন নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া ক্রপশো-২০২৬ এ মাঠেই আয়োজন করেছে এসিআই সীড। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বীজ পরিবেশক, কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা অংশ নিয়েছেন।
আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশের কৃষকদের আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। দেশের আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্রপশো অঞ্চলভিত্তিক বীজ বিক্রেতা ও কৃষকদের উপযুক্ত জাত বাছাইয়ে সহায়তা করবে। পাশাপাশি দেশের সবজির চাহিদা পূরণ ও কৃষি উদ্যোক্তাদের সফলতায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। সারা বছরই তিনি বিভিন্ন সবজি চাষ করেন। ক্রপশোতে এসে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, আগে এমন উচ্চ ফলনশীল ও বড় আকারের সবজি তিনি দেখেননি।
তিনি বলেন, এখানে টমেটো, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, বেগুনসহ নানা জাতের সবজি দেখেছি, যা আমাদের চাষ করা জাতের তুলনায় অনেক বড় এবং ফলনও বেশি। স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, এসব জাত পোকামাকড়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম সহ্য করে এবং দ্রুত ফলন দেয়। সব মিলিয়ে এগুলো চাষিবান্ধব। আগামী মৌসুম থেকে এসব জাত চাষের পরিকল্পনা করছেন বলেও জানান তিনি।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, এ ধরনের গবেষণা ও বিভিন্ন জাতের ফসল নিয়ে ক্রপশো বেশি বেশি হওয়া দরকার। এতে কৃষকরা নিজেদের এলাকার আবহাওয়া ও মাটির উপযোগী জাত বাছাই করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বীজ নিয়ে কৃষকদের মাঝে নানা প্রতারণার অভিযোগ থাকে। কিন্তু এখানে যে উচ্চ ফলনশীল জাতগুলো দেখা গেলো, তা কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
এসিআই সীডের বিজনেস পরিচালক সুধীর চন্দ্র নাথ বলেন, দেশের জলবায়ু ও মাটির ধরন অনুযায়ী সঠিক জাত নির্বাচন খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্রপশো কৃষক ও বীজ ব্যবসায়ীদের সময়োপযোগী জাত নির্বাচনে সহায়তা করবে এবং দেশের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা জানান, ক্রপশোর পরবর্তী দিন প্রদর্শনীটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কৃষির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে কৃষি বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। শিশু-কিশোরদের কৃষি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা দেশের কৃষিখাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ক্রপশোতে প্রদর্শিত উচ্চ ফলনশীল সবজির জাতগুলো কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























