খামেনি হত্যার জেরে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা, নিহত ৮
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অতর্কিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) খামেনির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করার পর রোববার (১ মার্চ) করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।
পাকিস্তানি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সহিংসতা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কনস্যুলেট ভবনে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করে। তারা গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে এবং জানালা ও দরজার কাচ ভাঙচুর করে।
সংঘর্ষের সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কনস্যুলেটের বাইরে পাথর নিক্ষেপ ও পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের দৃশ্য।
বার্তাসংস্থা এএফপি’কে পাকিস্তানের একটি রেসকিউ সংস্থার কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। করাচিভিত্তিক ইদি ফাউন্ডেশন রেসকিউ সার্ভিসের মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন বলেন, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আটজনের লাশ সংগ্রহ করে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কনস্যুলেট ভবনের কিছু অংশে আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে খামেনির মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালায়, তবে তার জবাব হবে নজিরবিহীন শক্তি দিয়ে।
পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনির হত্যাকাণ্ড শুধু ইরান নয়, পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























