‘নো কিংস’ শ্লোগানে কাঁপছে রাজপথ
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, রাস্তায় লাখো মানুষ
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনা শুরুর এক মাসের মাথায় নতুন করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২৮ মার্চ) দেশজুড়ে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ কর্মসূচি ছিলো তার দ্বিতীয় মেয়াদের সূচনার পর ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফা।
আন্দোলনের আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে একযোগে ৩ হাজার ৩০০-এরও বেশি কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করা হয়। বড় সমাবেশ হয়েছে নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসি-তে। শুধু দেশেই নয়, ইউরোপের রোম, প্যারিস ও বার্লিন-এও সমান্তরাল সংহতি কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এবারের বিক্ষোভে একটি নতুন কৌশল লক্ষ্য করা গেছে। বড় শহরের পাশাপাশি রক্ষণশীল ও গ্রামীণ এলাকাতেও আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন সংগঠকরা। প্রগতিশীল সংগঠন ইনডিভিজিবল-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, এ আন্দোলনের গুরুত্ব শুধু অংশগ্রহণকারীর সংখ্যায় নয়, বরং এটি দেশের কোন কোন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, সেটিতেই।
সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস–সেন্ট পল এলাকায়। গত ডিসেম্বর মাসে এখানে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর মাধ্যমে ব্যাপক অভিবাসন অভিযান চালানো হয়, যেখানে হাজারো ফেডারেল কর্মকর্তা অংশ নেন। ওই অভিযানের সময় দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবারের সমাবেশে নিহতদের স্মরণ করা হয়।
এ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও জোয়ান বায়েজ। ভিডিও বার্তায় সমর্থন জানান অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো, যিনি বিক্ষোভকারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-তে লিঙ্কন মেমোরিয়াল এবং ওয়াশিংটন মনুমেন্ট ঘিরে বড় জমায়েত হয়। সেখানে দেয়া বক্তব্যে স্যান্ডার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কোনওভাবেই কর্তৃত্ববাদী বা ধনকুবেরদের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেয়া হবে না।
এর আগে গত বছরের জুন ও অক্টোবরে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের প্রথম দুটি বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলো। চলমান এ আন্দোলন আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ বিক্ষোভ কেবল তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়—বরং এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত জনমতের প্রতিফলন। বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল নিচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























