Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:২৫, ২৫ মার্চ ২০২৬

ব্যয় সামলাতে হিমশিম ট্রাম্প

সস্তা ড্রোনে চাপে ট্রাম্প—‘মশা মারতে কামান’ ছুড়ছে মার্কিন জোট

সস্তা ড্রোনে চাপে ট্রাম্প—‘মশা মারতে কামান’ ছুড়ছে মার্কিন জোট
ফাইল ছবি

চলমান ইরান-সংকট ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন দেখা যাচ্ছে এক অসম যুদ্ধের চিত্র। একদিকে ইরানের তৈরি সস্তা ও ধীরগতির ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন, অন্যদিকে তা প্রতিহত করতে আকাশে উঠছে অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান। এ পরিস্থিতিকে অনেক বিশ্লেষকই ‘মশা মারতে কামান দাগানো’র সঙ্গে তুলনা করছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এ যুদ্ধ কৌশল এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, অল্প খরচের ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যবহার করতে হচ্ছে কয়েক লাখ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম।

তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতিটি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের দাম মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে। অথচ একটি F-16 Fighting Falcon যুদ্ধবিমান এক ঘণ্টা আকাশে উড়াতে খরচ হয় ২৫ হাজার ডলারের বেশি। শুধু তাই নয়, ড্রোন ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত AIM-9X Sidewinder ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির দাম প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার এবং AIM-120 AMRAAM ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ছাড়িয়ে যায় ১০ লাখ ডলার।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক ও পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টা লরেন কান মনে করেন, এ ধরনের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা কৌশল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তার মতে, কম খরচের ড্রোন ঠেকাতে বারবার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক হয়ে পড়ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, শুধু অর্থনৈতিক চাপই নয়—এ কৌশল সামরিক সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলছে। স্টিমসন সেন্টারের গবেষক কেলি গ্রিকো জানান, ধীরগতির ড্রোন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে যুদ্ধবিমানের জন্য সবসময় সহজ নয়। ফলে পাইলটদের বাড়তি ঝুঁকি নিতে হচ্ছে, পাশাপাশি বিমানগুলোর ওপরও বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণের চাপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এতদিন মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। ফলে নিচ দিয়ে ধীরগতিতে উড়া ছোট ড্রোন মোকাবিলায় তারা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরান প্রায় তিন হাজার ড্রোন ছুড়েছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছে। এতে করে প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন কৌশল নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট।

ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কম খরচে ড্রোন ধ্বংস করতে লেজার প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যেখানে প্রতিটি ড্রোন ভূপাতিত করতে খরচ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া হেলিকপ্টার, ভারী মেশিনগান এবং স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইউক্রেনের তৈরি প্রায় ১০ হাজার ইন্টারসেপ্টর ড্রোন মোতায়েন করেছে, যাতে সস্তা ড্রোন দিয়েই শত্রু ড্রোন প্রতিহত করা যায়।

তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আকাশে ড্রোন ধ্বংস করে এ যুদ্ধ দীর্ঘদিন চালিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য ইরানের ড্রোন উৎপাদন, মজুত ও উৎক্ষেপণ সক্ষমতা কমিয়ে আনাই হবে মূল কৌশল।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট পুনর্বহাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম-ঢাকার নেতৃত্বে মোবারক-সবুজ
জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সাত জেলা প্লাবিত, পানিবন্দি লাখো মানুষ
জন্মশহরে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
বিএনপি জনগণের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে
স্থানীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট
বালু উত্তোলন ঘিরে সুনামগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
চীনে ভয়াবহ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮
মিসরের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কলিনা
যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ফের সংঘাত
নতুন করে কাউকে ‘শেখ হাসিনা’ হতে দেয়া হবে না: সারজিস
কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ড, ইতিহাসে আর্জেন্টিনার দাপট