ইউক্রেনীয় ড্রোন ইস্যুতে টালমাটাল দেশ
রাজনৈতিক সংকটে লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
ইউক্রেনীয় ড্রোন অনুপ্রবেশকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের জেরে পদত্যাগ করেছেন এভিকা সিলিনা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। এতে আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে, যখন ইউক্রেনের তিনটি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে লাটভিয়া–র আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে একটি ড্রোন দেশটির একটি তেলের গুদামে আঘাত হানে। যদিও এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
জানা গেছে, ড্রোনগুলো মূলত রাশিয়া–র দিকে পাঠানো হয়েছিলো। তবে সিগন্যাল জ্যাম হওয়ার কারণে সেগুলো পথ হারিয়ে লাটভিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা গাফিলতির অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী সিলিনা তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রিস স্প্রুডস–কে বরখাস্ত করেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে স্প্রুডসের রাজনৈতিক দল সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে ক্ষমতাসীন জোট ভেঙে পড়ে এবং রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের পথ বেছে নেন প্রধানমন্ত্রী সিলিনা। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছিলো। তিনি উল্লেখ করেন, লাটভিয়া তার জাতীয় বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনও ধরনের আপসের সুযোগ নেই।
এদিকে লাটভিয়ার রাষ্ট্রপতি এডগার্স রিঙ্কেভিকস জানিয়েছেন, দ্রুত নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে তিনি আজ (১৫ মে) সিদ্ধান্ত নেবেন।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসা সিলিনা সরকার শুরু থেকেই ইউক্রেনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে আসছিলো। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের আশঙ্কায় লাটভিয়া বর্তমানে উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ সংকট দেশটির নিরাপত্তা নীতির দুর্বলতা ও জোট রাজনীতির ভঙ্গুরতাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র : বিবিসি
সবার দেশ/কেএম




























