ইরান ইস্যুতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুমকি ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল বা পরিবর্তনের হুমকি দিয়েছেন। তার এ মন্তব্যে ওয়াশিংটন-লন্ডন কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী রেচেল রিভস মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্পষ্ট ‘এক্সিট প্ল্যান’ ছাড়া যুদ্ধ শুরু করা ছিলো বড় ভুল, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়ছে। তার মতে, এ সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।
রেচেল রিভসের এ বক্তব্যের পর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্যকে তিনি ‘প্রয়োজনের চেয়েও ভালো’ বাণিজ্য চুক্তি দিয়েছিলেন, তবে সেটি ‘যেকোনও সময় বদলে দেয়া যেতে পারে’। ট্রাম্পের ভাষায়, আমরা তাদের ভালো একটি বাণিজ্য চুক্তি দিয়েছি—যতটা দেয়ার দরকার ছিলো তার চেয়েও ভালো। কিন্তু সেটি সবসময় পরিবর্তন করা সম্ভব।
এ বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। ব্রিটেন সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি, এমনকি হরমুজ প্রণালী অবরোধে সহায়তার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ সামরিক সমর্থন দেয়নি। ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ পাঠাতেও লন্ডন অস্বীকৃতি জানায়।
২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্য প্রথম দেশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছায়। সে চুক্তিকে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমান উত্তেজনায় সে অর্জন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
অন্যদিকে ট্রাম্প শুধু পররাষ্ট্রনীতি নয়, যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নীতিরও সমালোচনা করেছেন। তিনি ব্রিটেনের অভিবাসন নীতিকে ‘অব্যবস্থাপূর্ণ’ এবং উত্তর সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান সীমিত করার সিদ্ধান্তকে ‘অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর’ বলে মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ হুমকি শুধু কূটনৈতিক চাপ নয়—এটি যুক্তরাজ্যের ওপর রাজনৈতিক বার্তা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় একক বাণিজ্য অংশীদার, এবং দুই দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাজ্য সরকার অবশ্য বলছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ‘দীর্ঘস্থায়ী ও কৌশলগত’, এবং কোনও একক রাজনৈতিক বক্তব্যে তা ভেঙে পড়বে না। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























