Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৪৩, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার শঙ্কা

ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রফতানিকারক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেয়া এ ঘোষণাকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১ মে থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ সিদ্ধান্ত ওপেক জোটের ঐক্য ও প্রভাবের ওপর বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জোটের অনানুষ্ঠানিক নেতা সৌদি আরব-এর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। 

ওপেক ও ওপেক প্লাস মূলত তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার কাজ করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। 

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা, হুমকি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রফতানিকারক দেশগুলো বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতের এ সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আরব দেশগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় অসন্তুষ্ট ছিলো আমিরাত। একই সঙ্গে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের উৎপাদন কোটা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। 

আমিরাতের জ্বালানি মন্ত্রী সুহাইল আল মাজরুই জানিয়েছেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল, উৎপাদন সক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওপেক ছাড়ার পরও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে দেশটি। 

১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বিশ্ব তেলবাজারের অন্যতম প্রভাবশালী জোট। বিশ্বব্যাপী মোট তেল উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এ জোটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার পর ওপেকের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ালো ১১-তে। বর্তমানে জোটে রয়েছে সৌদি আরব, আলজেরিয়া, ইরান, লিবিয়া, ইরাক, কুয়েত, ভেনেজুয়েলা, নাইজেরিয়া, গ্যাবন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং ইকুইটোরিয়াল গিনি।

এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অ্যাঙ্গোলা ওপেক ত্যাগ করেছিলো।

অন্যদিকে ওপেক প্লাস জোটে ওপেক সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অ-ওপেক দেশও রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী হলো রাশিয়া। এছাড়া জোটে রয়েছে মেক্সিকো, ওমান, আজারবাইজান, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, ব্রুনাই, সুদান, দক্ষিণ সুদান এবং কাজাখস্তান।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে ওপেকের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে এবং বৈশ্বিক তেলবাজারে নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। 

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মানা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পথ নেই: ইরান
প্রদর্শনীতে মুজিব থাকলেও জিয়া নেই কেনো—জবাব দিলেন জামায়াত আমির
দক্ষিণ সুদান ও আবেইতে ৫ দিনের সফরে সেনাপ্রধান
বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানির খবর ‘অসত্য ও কাল্পনিক’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মাঠে জামায়াত, রোববার চূড়ান্ত হবে প্রার্থী
সরকারবিহীন রাষ্ট্রের রুদ্ধশ্বাস চারদিন: ক্যান্টনমেন্ট থেকে বঙ্গভব
৫ আগস্ট প্রাণনাশের শঙ্কায়ও দায়িত্বে ছিলাম: সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
সরকারবিহীন রাষ্ট্রের রুদ্ধশ্বাস চারদিন: ক্যান্টনমেন্ট থেকে বঙ্গভবন
ভারতীয় হাইকমিশনকে তলবের দাবি নাহিদ ইসলামের
বিয়ের খাবার নিয়ে বর ও কনেপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০
সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করলো পুলিশ
বিএনপি আইসিইউতে গেলে আমি বাঁচাই: রুমিন ফারহানা
ইতালি বিমানবন্দরে ২৬০ যাত্রী নিয়ে আটকা ঢাকাগামী বিমান
হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরতে চান সাকিব
মিরপুরে বিএনপি নেতাকে গুলি করলো যুবলীগ
পাকিস্তানে বাংলাদেশের আনারস রফতানির দ্বার উন্মুক্ত
নরসিংদীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল