পুড়েছে ২০ হাজার হেক্টরের বেশি বন
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদ আশ্রয়ে হাজারো মানুষ
তীব্র তাপপ্রবাহের পর এবার ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত দক্ষিণ ইউরোপের একাধিক দেশ। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আগুনে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বনভূমি ও প্রাকৃতিক এলাকা পুড়ে গেছে। কোথাও হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে, কোথাও বন্ধ রাখতে হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পর্যটন এলাকা। পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ একে ‘বারুদের স্তূপের’ সঙ্গে তুলনা করেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রবল বাতাস ও নতুন তাপপ্রবাহের কারণে আগামী দিনগুলোতে দাবানল আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে চার দেশে কয়েক হাজার দমকলকর্মী, শত শত অগ্নিনির্বাপণ যান এবং একাধিক বিমান ও হেলিকপ্টার কাজ করছে।
সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে ফ্রান্সের স্পেন সীমান্তবর্তী পিরেনিজ অঞ্চলে। সেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রায় ৭০০ দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেতাইয়ো জানান, সোমবার সকালে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বর্তমানে দেশটির পাঁচটি প্রশাসনিক এলাকায় দাবানল সক্রিয় রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ মৌসুমে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি। মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
স্পেনেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কাতালোনিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল ‘লেস গাভারেস’-এর বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কাস্তেলন প্রদেশের ‘সিয়েরা দে এস্পাদান’ জাতীয় উদ্যানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
পর্তুগালের মধ্যাঞ্চলের ভউজিলা এলাকায় কয়েক দিন ধরে জ্বলতে থাকা দাবানলে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দেশটির পাশাপাশি স্পেন ও ইতালিও সহায়তা পাঠিয়েছে। জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, আগুনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে এলেও কিছু এলাকায় এখনো ঝুঁকি রয়ে গেছে।
গ্রিসেও দাবানলের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের থেসালোনিকিতে বনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুটি কারখানা পুড়ে গেছে। এর মধ্যে একটি ছিল প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার কারখানা। বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমাঞ্চলেও নতুন একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে শতাধিক দমকলকর্মী ও অগ্নিনির্বাপণ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর ডি ফ্রান্সেও। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিযোগিতার তৃতীয় ধাপের ফিনিশিং লাইনের আশপাশে দর্শকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেবল প্রতিযোগী এবং জরুরি সেবার যানবাহনকে ওই এলাকায় চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
এদিকে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ইউরোপে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র: রয়টার্স
সবার দেশ/কেএম




























