চীনের বিরুদ্ধে গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে গোপনভাবে পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালানোর এবং অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতার নতুন পরীক্ষার প্রস্তুতির অভিযোগ তুলেছে। ওয়াশিংটনের মতে, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শামিল।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত ইউএন কনফারেন্স অন ডিসআরমামেন্টে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি থমাস ডিন্যানো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবগত যে চীন পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালিয়েছে, যার মধ্যে কয়েকশ টন ক্ষমতার পরীক্ষার প্রস্তুতিও অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ২২ জুন চীন এ ধরনের ক্ষমতাসম্পন্ন পরীক্ষা চালিয়েছে।
এর আগে গত বছরের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একই ধরনের অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে তখন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প ৩১ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে সমান ভিত্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় শুরু করবে, তবে কী ধরনের পরীক্ষা হবে তা ব্যাখ্যা করেননি।
ডিন্যানো অভিযোগ করেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি পরীক্ষাগুলো গোপন রাখতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ আড়াল করার চেষ্টা করেছে, কারণ তারা জানত এসব পরীক্ষা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীন ‘ডিকাপলিং’ নামক পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যার মাধ্যমে ভূকম্পন পর্যবেক্ষণের কার্যকারিতা কমানো হয় এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
ডিন্যানোর মন্তব্য আসে এমন সময়, যখন তিনি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। চীন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, এই পর্যায়ে তারা নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় যোগ দেবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ পারমাণবিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন উত্তেজনার সূচনা করেছে।
সবার দেশ/এফএস




























