ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কোনও ধরনের শত্রুতা বা প্রতিহিংসার রাজনীতি থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে যেন আর কখনও ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার ফিরে আসতে না পারে এবং দেশ কোনোভাবেই ‘তাঁবেদারি রাষ্ট্রে’ পরিণত না হয়, সে লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা প্রয়োজন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতভিন্নতা থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সে মতপার্থক্য কখনও শত্রুতায় রূপ নেয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, সংসদের রীতি অনুযায়ী আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, তবে শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা। বাংলাদেশে আর যাতে কখনোই কোনওভাবেই ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং এ প্রিয় মাতৃভূমি আর যাতে তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়—সে প্রশ্নে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য অটুট থাকবে।
দেশের রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের প্রভাবে শুধু রাজনীতি ও অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে শুধু রাজনীতি বা অর্থনীতিই নয়, বরং আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক, সংস্কৃতি এবং পারিবারিক মূল্যবোধেরও অবক্ষয় ঘটেছে। এ মূল্যবোধকে যেকোনওভাবেই হোক আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।
মূল্যবোধ পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে শৈশবের একটি পরিচিত ছড়া উদ্ধৃত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেনো ভালো হয়ে চলি’—এ ছোটবেলার শিক্ষা ও মূল্যবোধ সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের এ ছোটবেলার মূল্যবোধকে যেকোনও মূল্যে এ সংসদে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা যদি এ দেশকে গঠন করতে চাই, তবে এ সকল মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।
বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক সহনশীলতা, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সবার দেশ/কেএম




























