তরুণদেরকেই দায়িত্ব নিয়ে দেশটা গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু • প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা নিজ আঙিনা পরিষ্কারের আহ্বান • দেশজুড়ে যুক্ত হবে শিক্ষার্থী-স্বেচ্ছাসেবীরা
দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে তরুণ সমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে দেশকে এগিয়ে নেয়ার পথ কেউ রোধ করতে পারবে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণ সমাজ যে পরিবর্তনের সূচনা করেছে, এবার দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েও তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি তরুণ সমাজ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণরা কী করতে পারে, তা তারা সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে। এবার সে তরুণ সমাজকেই দেশ পুনর্গঠনের কাজে নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, এতো মানুষ যদি দেশকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিতে একসঙ্গে এগিয়ে আসে, তাহলে কেউ দেশকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দিতে পারবে না। দেশকে নিজেদেরই গড়ে তুলতে হবে।
তিন মাস ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে অভিযান
ডেঙ্গুর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এ কার্যক্রম চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ অভিযান পরিচালিত হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হবে।
মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে মাঠপর্যায়ের তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।
সপ্তাহে এক ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতায়
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু শতভাগ নির্মূল করা সম্ভব না হলেও সমন্বিত উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে এর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আগামী তিন মাস সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা নিজ নিজ বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের লক্ষ্য হবে—‘পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’
‘৮০ ভাগ সফল হতে পারবো’
ডেঙ্গু প্রতিরোধের এ কর্মসূচি শতভাগ সফল না হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। হয়তো শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব হবে না, তবে ৮০ ভাগ সফল হওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে তরুণ সমাজ দেখিয়েছে কীভাবে পরিবর্তন আনতে হয়। এবার সে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
মাঠে থাকবে শিক্ষার্থী-স্বেচ্ছাসেবীরা
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এজন্য শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
বিশেষ করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী-সচিবরা
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম।
তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
সবার দেশ/এমকেজে




























