Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:১৮, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বর্ষসেরা ট্যুরিজম পুরস্কার পেলেন সালাহউদ্দীন সুমন

বর্ষসেরা ট্যুরিজম পুরস্কার পেলেন সালাহউদ্দীন সুমন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পর্যটন খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’-এ ‘বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় ট্রাভেল ভ্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবু মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, যিনি সালাহউদ্দীন সুমন নামে পরিচিত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ পুরস্কারের আয়োজন করে।

অ্যান্টার্কটিকা, আমাজন ও আর্কটিকসহ বিশ্বের দুর্গম বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণ করে ভিডিও নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, অপরিচিত ভূপ্রকৃতি এবং গ্রামবাংলার জীবনযাত্রা নিয়ে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করে আসছেন সালাহউদ্দীন সুমন। তার এসব কাজ দেশ-বিদেশে দর্শকদের মধ্যে প্রশংসা পেয়েছে।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, পর্যটন খাতের বিভিন্ন স্পটে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা লিজিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগে আগ্রহী অংশীজনদের সঙ্গে সরকার আলোচনা করতে প্রস্তুত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সেবার মান বাড়াতে স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে তদারকি জোরদারের কথাও জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং দেশের সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ট্যুরিজম বোর্ড কাজ করছে। উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বীকৃতি ও উৎসাহিত করাই ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’-এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, টেকসই পর্যটন বিকাশ, সেবার মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্রচারণায় তরুণদের সম্পৃক্ততা দেশের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করতে পারে।

অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব শাইখা নাসের আল নোয়াইস এবং প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ হামিদ। এ ছাড়া বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধানসহ পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সালাহউদ্দীন সুমন বলেন, দেশের পর্যটন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়া একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। এ সম্মাননা তাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার ও সাজেক ভ্যালির মতো কয়েকটি জায়গার নামই সাধারণত সামনে আসে। কিন্তু নানা অব্যবস্থাপনার কারণে এসব জায়গার প্রতি বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ কমছে। তার মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রচারের মাধ্যমে গ্রামবাংলাকে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অন্যতম বড় আকর্ষণে পরিণত করা সম্ভব।

সালাহউদ্দীন সুমন বলেন, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত ও বসন্ত—প্রতিটি ঋতুতেই বাংলাদেশের গ্রাম নতুন রূপে হাজির হয়। কবিতা, গল্প ও সিনেমায় গ্রামবাংলার যে বৈচিত্র্য উঠে এসেছে, পর্যটন পরিকল্পনায় সেটিকে আরও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে পুরস্কার আয়োজনের পাশাপাশি কার্যকর উদ্যোগ নেয়ারও প্রত্যাশা জানান তিনি।

সালাহউদ্দীন সুমন জানান, পদ্মা নদীর তীরে রাজশাহীর চরখানপুর গ্রাম তার ব্যক্তিগতভাবে পছন্দের একটি জায়গা। গ্রামটির তিন দিকেই ভারতের সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও লোকজ সংস্কৃতি নিয়ে তিনি নিয়মিত ভিডিও তৈরি করছেন।

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর পুরস্কার দেয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ডের যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৬টি বিভাগে বর্ষসেরা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগকে পুরস্কৃত করা হয়।

এ ছাড়া ‘বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ’ বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে ‘শাকাওয়াথ’স সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্ট ফর ফুড কস্ট’। বর্ষসেরা পাঁচ তারকা হোটেল হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা। পর্যটনবিষয়ক সাংবাদিকতায় পুরস্কৃত হয়েছেন নাঈম উল ইসলাম।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

৩০০ ফিটে উচ্ছেদ অভিযান, সরানো হলো বিলবোর্ড
রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড
ভারতে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে দুই মুসলিম যুবক হত্যা
জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলার আগে নিজের চেহারা আয়নায় দেখুন: গোলাম পরওয়ার
বর্ষসেরা ট্যুরিজম পুরস্কার পেলেন সালাহউদ্দীন সুমন
মৃত্যুদণ্ডের ইনজেকশনেও মৃত্যু নয়, হাসপাতালে অচেতন ক্রিস্টা
হেলমেট ছুড়ে আখতারুজ্জামান বললেন, ‘অবৈধ অর্ডার মানি না’
শিক্ষকদের পেনশন ৩ মাসে দেয়ার দাবি আখতারের
মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
চুক্তিভিত্তিক জনবল নেবে সেভ দ্য চিলড্রেন
বাগেরহাটে নসিমন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩
আমরা যুদ্ধে জড়াতে চাই না: তথ্যমন্ত্রী
নেতানিয়াহু-আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ‘বিমান ছিনতাই নাটক’
রাশিয়া থেকে এলো ইউরেনিয়াম, ভোরে রূপপুরের পথে