Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:১১, ২৪ জুলাই ২০২৬

সিটি করপোরেশন ঘোষণারও ভাবনা

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে গড়তে মহাপরিকল্পনা

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে গড়তে মহাপরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় উপকূলীয় উন্নয়নসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটার বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা, সরকারি হোটেল পুনর্নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ে তোলা এবং কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এবং ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা দেয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে প্রণীত কক্সবাজারের বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যান সংশোধন করে আরও বিস্তৃত ও সময়োপযোগী একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। চলতি বছরের মধ্যেই নতুন পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান পরিবেশগত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটার সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে পর্যটনবান্ধব উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশগত ছাড়পত্র দ্রুত দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়।

বৈঠকে পর্যটন করপোরেশনের অধীন পরিচালিত তিনটি সরকারি হোটেল ভেঙে আন্তর্জাতিক মানের নতুন হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের সফল পর্যটন উন্নয়ন মডেল তুলে ধরে কক্সবাজারে সেগুলোর উপযোগী বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকে আধুনিক সড়ক যোগাযোগও উন্নত করা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারকে অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটন উন্নয়নের জন্য যেখানে প্রয়োজন সেখানে পরিকল্পিতভাবে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ থাকতে হবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই সব ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা করা অবশ্যই জরুরি। তবে এমন কঠোর বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয়, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়েছে, বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

নগর উন্নয়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সীমিত ভূমির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে পরিকল্পিত বহুতল বা উল্লম্ব উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে হবে। বিশ্বের বড় বড় পর্যটন নগরীগুলোও এ ধরনের পরিকল্পনার ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্থমন্ত্রীকে দেয়া হয়েছে এবং তিনি এ-সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২০২৬ সালের মধ্যে নতুন মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন মহাপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম এলাকা নির্ধারণ, মেরিন ড্রাইভ ও উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে কীভাবে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করা যায়, কীভাবে এটিকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের প্রধান গন্তব্যে রূপ দেয়া যায়—সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা সমন্বিত পরিকল্পনা করছি।

তিনি জানান, এ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি ও সামুদ্রিক সম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গভীর সমুদ্রবন্দর (ডিপসি) এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি পর্যটন হাব গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

পরিকল্পনার আওতায় কক্সবাজারে বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানি শোধনাগারসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক অবকাঠামো নির্মাণের কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে কক্সবাজার শুধু পর্যটনের নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে পরিণত হবে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে গড়তে মহাপরিকল্পনা
চাকরি ফিরে পেলেন ‘টিপকাণ্ডে’ চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য
জুলাই বিপ্লব ছিলো দেশ ও জাতির মুক্তির বার্তা: জামায়াত আমির
সিআইএর স্থাপনায় রাশিয়ার সহায়তায় হামলা চালায় ইরান
শুধু পদত্যাগ নয়, চুপ্পুকে গ্রেফতার করতে হবে: নাহিদ
ঢাকার নুসরাত, মুম্বাইয়ের রিয়া—দুই দেশের রাজপথে প্রতিবাদের প্রতীক
সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দেশে ফিরছেন স্পিকার
ওমরাহর পথে সৌদিতে প্রাণ গেলো প্রবাসী মা-মেয়ে-ছেলের
শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি: রয়টার্স
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ প্রায় চূড়ান্ত
বিশ্বকাপের সেরা একাদশ ঘোষণা, ব্রাজিলের কেউ নেই
আগামী ২৪ ঘণ্টায় চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা
ভারতজুড়ে বিক্ষোভের আগুন, চাপে মোদি
বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী কার্ড’, ছাত্রদলকে ‘চাঁদাবাজি কার্ড’ দিবো: নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী