নিহত দুই বাংলাদেশি, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধের আহ্বান
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, ঢাকার তীব্র নিন্দা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের চালানো প্রাণঘাতী হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার এ হামলার ‘দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তীব্র নিন্দা’ জানিয়ে বলেছে, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
বাংলাদেশিদের খোঁজ নিচ্ছে রিয়াদ দূতাবাস
হামলায় নিহত ও আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারসহ সব শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে ঢাকা। পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছে বাংলাদেশ সরকার।
সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা এবং এতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সৌদি আরবের প্রতি সংহতি ঢাকার
বিবৃতিতে সৌদি আরব সরকার ও দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অবস্থান অনুযায়ী, সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
নিহত ১২, ছয় দেশের নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি আরবের নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশের নাগরিক। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন।
হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হতাহতদের চিকিৎসা নিয়ে জরুরি তৎপরতা শুরু হয়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা। ধারাবাহিক হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সৌদি ভূখণ্ডে গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেন সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতি বিদ্রোহীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীকে সহায়তা দিতে সৌদি আরব সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে।
হুতিদের পক্ষ থেকে এর আগে দাবি করা হয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাব হিসেবেই রিয়াদে আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং পাল্টা সামরিক অভিযান আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সংঘাত প্রশমনে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
বাংলাদেশ সরকারও তার বিবৃতিতে সে অবস্থান তুলে ধরে জানিয়েছে, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও কূটনীতির কোনও বিকল্প নেই।
সবার দেশ/এমকেজে




























