তদন্ত অব্যাহত
ভারতীয় তালিকা থেকে বাদ ৬ হাজার ৪৭৬ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা
মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি তালিকা থেকে ভুয়া ও অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ দেয়ার কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই শেষে মুক্তিযোদ্ধা গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১৫িএপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মুক্তিযোদ্ধা তালিকা পরিশুদ্ধ করার কাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণ মিললেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
আহমেদ আযম খান জানান, অনেকেই ভুয়া তথ্য দিয়ে ভারতের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এসব অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের নাম বাতিল করা হচ্ছে। গত বছরের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত মোট ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের বিরুদ্ধে গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা বাতিলের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর জামুকার উপকমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শুনানি ও তদন্ত সম্পন্ন করে। কেউ অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে তার সনদসহ সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, রংপুর-৪ আসনসহ দেশের যেকোনও এলাকা থেকে অভিযোগ এলে একই নিয়মে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে তালিকাচ্যুত হওয়া বিপুল সংখ্যক ব্যক্তির মধ্যে বড় একটি অংশ ভারতীয় তালিকার অপব্যবহারের মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সরকার মুক্তিযোদ্ধা তালিকার মর্যাদা রক্ষায় কোনও আপস করবে না বলেও তিনি জানান।
সবার দেশ/কেএম




























