২০৪৫ সালের রেল মহাপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন, আসছে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু
দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের অংশ হিসেবে প্রধান প্রধান রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগকে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রধান রুটে পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বা বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করা হবে। এতে জ্বালানি ব্যয় কমবে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং ট্রেন পরিচালনা আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে।
তিনি জানান, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে পর্যায়ক্রমে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সড়ক, রেল ও নৌপথকে সমন্বিত করে মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে নতুন গতি আনবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহাসড়কে অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে সড়কের ক্ষতি রোধে স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা এবং এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি চালু করা হবে। এর মাধ্যমে সড়কের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দেশের দুই বৃহৎ নদী অতিক্রমে নতুন সংযোগ স্থাপনের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
রেল খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তিতে পরিণত করতে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় দেশের সব রেলপথকে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে, যাতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হয়।
তিনি বলেন, রেলের সক্ষমতা ও সেবার মান বাড়াতে আগামী বছরগুলোতে আন্তঃনগর, কমিউটার এবং পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রেলব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ খাতে নতুন যুগের সূচনা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সড়ক, রেল ও সেতু খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে।
সবার দেশ/কেএম




























